জন্মদিনে ভালোবাসায় আপ্লুত অভিনেত্রী সোহানা সাবা
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ২২

প্রতিদিনের বিনোদন:
জন্মদিন তার কাছে বছরের সবচেয়ে প্রিয় দিন। তবে এই দিনেই জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে যাওয়ার অনুভূতিও কাজ করে। গত কয়েক বছরে জন্মদিনকে ঘিরে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা। কখনো পরিচিতদের শুভেচ্ছা থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন, আবার কখনো অপরিচিত মানুষের ভালোবাসায় হয়েছেন অভিভূত। এবারের জন্মদিনে সেই ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে জন্মদিন, জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, নিজের বিশ্বাস ও আদর্শ এবং মুক্তভাবে পৃথিবী ঘুরে বেড়াতে না পারার আক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সোহানা সাবা।
অভিনেত্রী লেখেন, জন্মদিনে তার মন এমনিতেই ভালো থাকে। মনে হয়, এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি, দিনটি শুধুই তার। তবে একই সঙ্গে জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে যাওয়ার মন খারাপও থাকে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে জন্মদিনকে ভিন্নভাবে দেখেছেন তিনি। এমন সময়ও গেছে, যখন অশান্তির কারণে জন্মদিনে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখতেন, যেন কেউ শুভেচ্ছা জানাতে না পারেন।
জন্মদিন নিয়ে সেই অনুভূতি বদলে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন সাবা। একসময় মানুষের শুভেচ্ছা, প্রশংসা ও ভালোবাসা উপভোগ করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াও ভালো লাগতে থাকে তার।
তবে দুই বছর আগের জন্মদিনের অভিজ্ঞতা ছিল আলাদা। সাবার ভাষ্য, নিজের বিশ্বাস, নীতিবোধ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে পরিচিত অনেকের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা কমে গিয়েছিল। কেউ কেউ তার সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন বলে মনে হয়েছে তার।
অন্যদিকে, সেই কঠিন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে পেয়েছেন ভালোবাসা ও সাহস জোগানোর বার্তা। যাদের সঙ্গে কখনো দেখা বা পরিচয় হয়নি, তারাই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সমর্থন জানিয়েছেন। সাবা লেখেন, এসব মানুষ ইনবক্সে এসে জানিয়েছেন, তার কথা তাদের সাহস জোগায়।
গত বছর সেই দূরত্ব কিছুটা কমলেও এবারের জন্মদিনের অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পরিচিত-অপরিচিত, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় অভিভূত তিনি। সবার মেসেজ, মন্তব্য ও ফোনকলকে মূল্যবান উল্লেখ করে সাবা জানান, প্রত্যেককে আলাদা করে উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলেও তিনি চেষ্টা করবেন। কারও বার্তার জবাব দিতে না পারলে অভিমান না করার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
নিজের আদর্শ ও অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সোহানা সাবা। তিনি লেখেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমার বিশ্বাস, আমার আদর্শ, আমার মেরুদণ্ড, সবকিছু নিয়েই আমি যেমন ছিলাম, তেমনই থাকব।’
এরপর নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, মাথা উঁচু করে, মেরুদণ্ড সোজা রেখেই থাকতে চান তিনি। কেউ তার বিশ্বাস থেকে তাকে এক বিন্দুও টলাতে পারবে না।
তবে এত ভালোবাসার মধ্যেও একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে সাবার। পাখির মতো এক দেশ থেকে আরেক দেশ, এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে উড়ে বেড়াতে ভালোবাসেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনভাবে পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর সেই আনন্দ এখন পাচ্ছেন না। তার মতে, সেই স্বাধীনতা ফিরে পেলে পৃথিবীটা ষোলো কলায় পূর্ণ হয়ে উঠত।
জন্মদিনের অনুভূতির ইতি টেনেছেন ভালোবাসার কথায়। তার ভাষায়, জীবন সুন্দর, আর এত মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকা আরও সুন্দর। জন্মদিনে সবার কাছ থেকে পাওয়া এই অফুরন্ত ভালোবাসাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার মনে করছেন সোহানা সাবা।
ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন সোহানা সাবা। মায়ের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণায় নাচ শেখা শুরু করেন তিনি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি ও ছায়ানটে শাস্ত্রীয় নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। প্রায় ১৪ বছর নাচের চর্চা করেছেন তিনি। মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ক্যামেরার সামনেও কাজ করার অভিজ্ঞতা হয় তার। পরে টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ শুরু করেন সাবা।
অভিনয় দিয়ে পরিচিতি পাওয়ার পর বড়পর্দায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন সোহানা সাবা। তবে মুক্তির হিসাবে মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘খেলাঘর’ তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা।

















