৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চাটখিল-খিলপাড়া সড়ক নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে, জনদুর্ভোগ চরমে
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৩

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিলে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চাটখিল-খিলপাড়া সড়ক নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এ রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন এবং হাজার হাজার মানুষ। প্রায় ১ যুগ ধরে চলাচলের অযোগ্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী ভালো মানের একটি সড়ক হবে। ভাঙ্গাচুরা রাস্তায় চলাচলের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে লোভী ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে।
জানা যায়, নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সড়ক ও জনপদের অধীনে চাটখিল খিলপাড়া সড়কের ৭ কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রতি সাত কোটি ৭৬ লাখ টাকা টেন্ডারে ঠিকাদার মোরশেদ আলম কাজটি পান। কিন্তু সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় সড়ক ও জনপদকে রাস্তার কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই সাত কিলোমিটার রাস্তার অনেক জায়গায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় ফেটে চৌচির হয়েছে, হাতে উঠে আসছে নিম্নমানের বিটুমিন যুক্ত মুড়ি পাথর, সঠিক সময়ে গাইড ওয়াল নির্মান না করায় ১০ থেকে ১৫টি জায়গায় রাস্তা ধ্বসে পড়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও যাত্রী সাধারনের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিজের ইচ্ছা মাফিক কাজটি করছেন। কার্যাদেশ অনুযায়ী বিটুমিনের পাথরের ৪০ মিলি ঢালাই এর জায়গায় ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার ঢালাই দেওয়া হয়েছে। নির্মাণের পরপরই রাস্তা ভেঙ্গে গর্ত হয়ে যাওয়া অনেক অংশে পুনরায় বালি ও পাথর দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। রাস্তার পাশের যেসব অংশ ধ্বসে পড়েছে সেসব জায়গা বালুর বস্তা ও কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। রাস্তায় চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রেণি পোশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আগে রাস্তা নির্মাণ ও পরে গাইড ওয়ালের নির্মানের কাজ করে। এতে রাস্তাটি ফেঁসে গেছে, আগে যদি গাইডওয়াল নির্মাণ করত তাহলে অন্তত রাস্তাটি ধ্বসে পড়তো না। গাইড ওয়াল নির্মাণের পরে সঠিক নিয়মে মাটি না দেওয়ায় রাস্তার পরিস্থিতি আরো খারাপ পর্যায়ে যায়। কাজ করে যাওয়ার অল্প কয়েকদিন পরেই মুড়ি পাথরের উপর থেকে কলো বিটুমিনের আবরন সরে গিয়ে রাস্তাটি প্রায় ধূসর হয়ে গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেন এই রাস্তায় নিম্নমানের অল্প বিটুমিন ও সুগার মিলের গাদ ব্যবহার করা হয়েছে।
এই রাস্তায় চলাচলকারী ছয়ানী টবগা গ্রামের কফিল উদ্দিন ভূইয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঠিকাদার প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে বিটুমিন পাথর মিক্স করে এনে এখানে কাজ করেছেন, সে অত্যান্ত নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করেছে যার কারণে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আমরা এই রাস্তার পুনঃনির্মাণ চাই এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের শাস্তি দাবি করছি।
এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক হান্নানের সাথে কথা বললে সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এই ভাঙ্গা রাস্তা নিয়ে আমরা অনেক কষ্ট করেছি, আশা ছিল সেই কষ্ট এবার লাঘব হবে কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি, রাস্তাটিতে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকার একটি প্রকল্প নির্মানের পরপরই যদি সড়কের এমন বেহাল অবস্থা হয়, তাহলে নির্মাণের মান, তদারকি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও অব্যাহত থাকবে।
এই বিষয়ে ঠিকাদার মোরশেদ আলমের সাথে কথা বললে তিনি বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, রাস্তাটির কাজ এখনো আমরা সমাপ্ত করিনি। যেসব স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা আমরা অবশ্যই সঠিকভাবে কাজ করে দিবো।
সড়ক ও জনপদের চাটখিল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, রাস্তায় যে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা আমাদের নজরে আছে। বৃষ্টিপাত একটু কমলেই এসব সমস্যার সমধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনিও সড়কের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, অতি দ্রুত সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশা রাখেন অতি অল্প সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শেষ করবেন।




















