দেড় দশকেও সংস্কার হয়নি মতলবের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৬

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
দেড় দশক আগে পাকা করা হয়েছিল সড়কটি। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে হয়নি উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার। ফলে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে খানাখন্দ আর গর্তের সড়কে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে পানি জমে সৃষ্টি হয় আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন, প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের দাশের বাজার থেকে রসুলপুর স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হচ্ছে।
স্থানীয়দের কাছে সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি ফতেপুর পূর্ব, সুলতানাবাদ ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
সড়কটির আশপাশে রয়েছে ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সি আজিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব সরকারি হাসপাতাল, মতলব সরকারি কলেজ ও রয়মনেননেছা মহিলা কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও সেবাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও স্বজনদের বড় একটি অংশকে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগীবাহী যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চালানো সম্ভব হয় না। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
দক্ষিণ ইসলামাবাদ দাশের বাজারের ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমান বলেন, সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় ধ্বংসের মুখে। বর্ষাকালে খানাখন্দে যানবাহন আটকে যায়। মালামাল আনা-নেওয়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও অনেক সময় অন্য বাজারে চলে যান। দ্রুত সংস্কার না হলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
ইসলামাবাদ গ্রামের মতলব ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাসুদ বলেন, প্রতিদিন এই ভাঙা সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে যেতে হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বৃষ্টি হলে কোনো যানবাহন যেতে চায় না। গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। এতে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইজিবাইকচালক আশরাফ আলী বলেন, সড়কের গর্তে পড়ে প্রতিদিনই ইজিবাইকের কোনো না কোনো পার্টস নষ্ট হচ্ছে। মেরামতের পেছনে যে টাকা খরচ হয়, তাতে আয় থেকে লাভ থাকে না। তার ওপর যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাসুদ বলেন, ২০১০ সালে রাস্তাটি পাকা করার পর থেকে আর কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। অথচ তিনটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, সড়কটির টেকসই সংস্কার করে দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলেন, রাস্তাঘাট সংস্কার বা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সড়কটি যদি জিপিপি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত থাকে, তবে গুরুত্বের সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
সড়কটির দুরবস্থার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। জরাজীর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















