০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা, ভারতের সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বললেন ইসহাক দার

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • /

পাকিস্তান ভারতের সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) একতরফাভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি: আ কি ইনস্ট্রুমেন্ট ফর পিস অ্যান্ড রিজিওনাল স্ট্যাবিলিটি’ সম্মেলনে পাকিস্তানের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে 'অবৈধ' এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকার এই চুক্তি স্থগিত করে। ভারতের দাবি, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং পানিপ্রবাহ ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হবে।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সিন্ধু নদকে পাকিস্তানের জীবনরেখা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কোনোভাবে দর-কষাকষির উপকরণ হতে পারে না। তিনি পানিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের প্রস্তাব দেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সিন্ধু পানিচুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালের সামরিক সংঘাতের সময়ও কার্যকর ছিল। তিনি সতর্ক করেন যে, চুক্তি কার্যকর না থাকলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাকিস্তানের ইন্ডাস রিভার সিস্টেম অথরিটির অভিযোগ, ভারত সম্প্রতি চেনাব নদীতে পানির প্রবাহ কমিয়ে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত রাভি, শতদ্রু ও বিয়াস নদী এবং পাকিস্তান সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদের পানি ব্যবহারের অধিকার পায়। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সংকটের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা, ভারতের সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বললেন ইসহাক দার

আপডেট সময় : ০২:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তান ভারতের সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) একতরফাভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি: আ কি ইনস্ট্রুমেন্ট ফর পিস অ্যান্ড রিজিওনাল স্ট্যাবিলিটি’ সম্মেলনে পাকিস্তানের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে 'অবৈধ' এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকার এই চুক্তি স্থগিত করে। ভারতের দাবি, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং পানিপ্রবাহ ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হবে।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সিন্ধু নদকে পাকিস্তানের জীবনরেখা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কোনোভাবে দর-কষাকষির উপকরণ হতে পারে না। তিনি পানিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের প্রস্তাব দেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সিন্ধু পানিচুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালের সামরিক সংঘাতের সময়ও কার্যকর ছিল। তিনি সতর্ক করেন যে, চুক্তি কার্যকর না থাকলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাকিস্তানের ইন্ডাস রিভার সিস্টেম অথরিটির অভিযোগ, ভারত সম্প্রতি চেনাব নদীতে পানির প্রবাহ কমিয়ে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ভারত রাভি, শতদ্রু ও বিয়াস নদী এবং পাকিস্তান সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদের পানি ব্যবহারের অধিকার পায়। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সংকটের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বর্তমানে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।