১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মতলব উত্তরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১০ গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / ৮৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের বর্তমান গদীনশীন পীর ইমামুল আরেফিন ড. মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের অনুসারীরা এ ঈদ উদযাপনে অংশ নেন। সকাল ৯টার দিকে পাঁচআনী দরগা মসজিদ ঈদগাঁ মাঠ, মধ্য পাঁচআনী গাইবি জামে মসজিদ (পাঁচআনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ) প্রাঙ্গণ এবং দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সাড়ে পাঁচআনী কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ ময়দানে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা খলিলুর রহমান, দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফুল ইসলাম। জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে পশু কুরবানী এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।

জামাতে অংশ নেওয়া মাওলরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘদিন ধরে ঈদ উদযাপন করে আসছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও একইভাবে ঈদ পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতলব উপজেলার বাহেরচর পাঁচআনী, আইঠাদি পাঁচআনী, সাড়ে পাঁচআনী, দেওয়ানকান্দি, সাতানী লতরদী, আমিয়াপুর (আংশিক) ও উত্তর নেদামদী (আংশিক)সহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে এসব এলাকার মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করে আসছেন।

অপরদিকে দৈনিক প্রিয় চাঁদপুরের প্রকাশক ও সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতানুসারে বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দ্রুত চাঁদ দেখার খবর পাওয়া সম্ভব হওয়ায় আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘদিন ধরে ঈদ উদযাপন করছি।

এদিকে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতলব উত্তর থানা পুলিশ প্রতিটি ঈদগাহে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, উপজেলার কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন হয়েছে এবং সবগুলো জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাও জানান।

প্রতিবছরের মতো এবারও আগাম ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মতলব উত্তরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১০ গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন

আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আগাম পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা। বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের বর্তমান গদীনশীন পীর ইমামুল আরেফিন ড. মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমানের অনুসারীরা এ ঈদ উদযাপনে অংশ নেন। সকাল ৯টার দিকে পাঁচআনী দরগা মসজিদ ঈদগাঁ মাঠ, মধ্য পাঁচআনী গাইবি জামে মসজিদ (পাঁচআনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ) প্রাঙ্গণ এবং দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সাড়ে পাঁচআনী কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ ময়দানে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা খলিলুর রহমান, দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফুল ইসলাম। জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে পশু কুরবানী এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।

জামাতে অংশ নেওয়া মাওলরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘদিন ধরে ঈদ উদযাপন করে আসছি। আমাদের পূর্বপুরুষরাও একইভাবে ঈদ পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতলব উপজেলার বাহেরচর পাঁচআনী, আইঠাদি পাঁচআনী, সাড়ে পাঁচআনী, দেওয়ানকান্দি, সাতানী লতরদী, আমিয়াপুর (আংশিক) ও উত্তর নেদামদী (আংশিক)সহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে এসব এলাকার মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করে আসছেন।

অপরদিকে দৈনিক প্রিয় চাঁদপুরের প্রকাশক ও সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতানুসারে বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দ্রুত চাঁদ দেখার খবর পাওয়া সম্ভব হওয়ায় আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দীর্ঘদিন ধরে ঈদ উদযাপন করছি।

এদিকে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতলব উত্তর থানা পুলিশ প্রতিটি ঈদগাহে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, উপজেলার কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন হয়েছে এবং সবগুলো জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাও জানান।

প্রতিবছরের মতো এবারও আগাম ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন