মতলবে ৫ বারের ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খন্দকারের দাফন সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ০৯:০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৮৬

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় পাঁচ বারের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, নাউরী আহম্মাদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবুল হোসেন খন্দকারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাদ মাগরিব নাউরী আহম্মাদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার পূর্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরহুমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদান করেন মতলব উত্তর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেদায়েত উল্লাহ এবং মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল।
এর আগে সোমবার ভোর রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বরেণ্য শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সমাজসেবক হেলাল উদ্দিন সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মরহুমের বড় সন্তান রেদোয়ান খন্দকার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ এমরান হোসেন মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল গনি তপাদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্যা প্রধান, নাউরী আহম্মাদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম তাজুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ উল্লাহ।
বক্তারা বলেন, আবুল হোসেন খন্দকার ছিলেন একজন নির্লোভ, সৎ ও জনদরদি মানুষ। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনপ্রতিনিধিত্ব সব ক্ষেত্রেই তিনি সততা ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
১৯৬৪ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জনকারী আবুল হোসেন খন্দকার স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালে রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রাখেন।
স্বাধীনতার পর তিনি পাঁচবার মতলব উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মাদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০১ সালে অবসর গ্রহণের সময় হলেও ছাত্রদের প্রতি ভালোবাসা ও বিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি আরও ১৫ বছর শিক্ষকতা অব্যাহত রাখেন। এর মধ্যে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
মরহুমের জানাজায় উপজেলার শিক্ষক সমাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে গোটা মতলব উত্তর উপজেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া।



























