ব্যানারে পদবী ভুল করায় পরীক্ষার হলের সামনে বিএনপির দু’পক্ষের হাতাহাতি
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫০

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন একটি কেন্দ্রের সামনে ব্যানারে পদবী ভুল করায় তর্কবিতর্কের জের ধরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেবতী মোহন পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সিদ্ধিরগঞ্জে চলমান এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। তাঁর সফর ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তোরণ ও ব্যানার তৈরি করেন। তার মধ্যে ইমাম হোসেন বাদলের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের বাড়ির গেটে টাঙ্গানো হয়। পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য কেন্দ্র ত্যাগ করার পরপরই ব্যানারে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকের স্থলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখা পদবী নিয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম আপত্তি জানায়। এসময় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন বাদল নিজ হাতে ব্যানারের ভুল হওয়া অংশ কেচি দিয়ে কেটে ফেলে। এতে ইমাম হোসেন বাদলের সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব শাহআলম হীরাকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠে বাদল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পরীক্ষার হলের ঠিক সামনে এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় সেখানে থাকা অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাড়ির সামনে একটি ব্যানার লাগাইছে, সেখানে লেখছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এ বিষয়টি আমার কাছে খারাপ লেগেছে, কারণ সে তো কখনো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিল না। ৩০/৩২ বছর আগে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বানাইছিল। ওনিও ৫ বছর পরে শেষ এবং সেও শেষ। পরে তিনি আর বিএনপির রাজনীতি করে নাই, সে বিদেশ চলে গেছে। ৫ আগষ্ট দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আবার দেশে ফিরে আসে। সেও মান্নান সাহেবের নির্বাচন করেছে, আমরাও করেছি। ওনি এখন দল ভারী করার জন্য ওনার সাথে এলাকার কোন লোক নাই, এখন সে আওয়ামীলীগের ক্যাডার বসু যার নামে ৫টি বৈষম্য বিরোধী মামলা রয়েছে তাদেরকে নিয়ে আজ আমার লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব শাহআলম হীরা বলেন, এমপি আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই আমরা পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করি এবং পরে এমপি আসার পর আমরা সভাই তাকে অভ্যর্থনা জানাই। ওনি পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পরও আমরা সেখানে অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ উচ্চস্বরে গালি-গালাজের শব্দ পাই। ওইখানে বৈষম্যবিরোধী মামলায় জামিনপ্রাপ্ত লোকজনও ছিল। মূল বিষয় হল ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়ির সামনে একটি ব্যানার দেখতে পাই। দেখলাম সেটি ইমাম হোসেন বাদলের একটি ব্যক্তিগত ব্যানার। ব্যানারটিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লেখা। তখন সিরাজ ভাই বলল সে তো এ পদে কখনো ছিল না, এসময় কেউ বলছে হয়তো ভুল হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে বাদল ভুল হওয়া অংশটি কেচি দিয়ে কেটে ফেলে যাতে সেটি বুঝা না যায়। ওই সময় বাদলের সাথে থাকা জহিরুল ব্যানারটি দেখে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং সিরাজকে ছিড়ে ফেলবে। তখন আমি বললাম তুমি যে এভাবে গালাগালি করছ এটা কি ঠিক হচ্ছে। এসময় জহিরুলের সাথে বসু এবং তার ভাই আলী এই তিনজন মিলে আমার সাথে বাক বিতন্ডা করে এবং আমাকে ধাক্কা মারে।
সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন বাদল বলেন, আসলে আমাদের সম্পর্কে যে অভিযোগগুলো দিয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। এমপি সাহেব পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসবে সেজন্য গতকালই সবাইকে জানিয়েছি। সকাল থেকেই তারা নানান ধরণের উষ্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছে আমরা তাতে কোন কর্ণপাত করিনি। কিন্তু যে স্থানটিতে অভিভাবকরা বসবে সেই গেটে আমার একটি ব্যানার টানানো ছিল। তারা বলছে সেটিতে নাকি ভুল হয়েছে। আমি জানার পর সেটি কেটে দিয়েছি। কেটে দেওয়ার পরও সে উচ্চ বাচ্য করতেছে। তখন ছেলে-পেলেদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে। আর ৫ আগষ্টের পরে যাদের নামে বৈষম্যবিরোধী মামলা হয়েছে তখন তারাও তাদের সাথে ছিল। তারা বিভিন্ন সংগঠন দখল করেছে। আমি কোন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই।
সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতী মোহন পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনুক কুমার দাস বলেন, আমি কেন্দ্রের ভেতরে থাকায় বাহিরে কি ঘটেছে সেটা বলতে পারছি না। আমি আপনার থেকেই শুনেছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, কেন্দ্রের বাহিরে দু’গ্রুপের বাক্িবতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। অন্য কিছু হয়নি। আমাদের পুলিশ সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছে।


























