১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও জনতার অভিভাবক আবুল হোসেন খন্দকার আর নেই

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৭

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আকাশ থেকে নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ ও জনসেবার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এক নির্লোভ, নিরহংকারী অথচ দৃঢ়চেতা মানুষের চিরবিদায়ে আজ শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা শিক্ষক ও দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ আবুল হোসেন খন্দকার (বিএ) (৮৫) আর নেই।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ) ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের নয় একটি ইউনিয়ন, একটি প্রজন্ম এবং একটি ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বাদ আছর নাউরি আহমাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৪১ সালের ৪ মার্চ মতলব উত্তর উপজেলার ১১ নং পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নের ফৈলাকান্দি গ্রামের খন্দকার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হোসেন খন্দকার। পিতা মরহুম ইদ্রিস আলী খন্দকার ও মাতা মরহুমা তনজীবুন নেসার সন্তান হিসেবে তিনি বেড়ে ওঠেন সততা, শালীনতা ও মানবিকতার শিক্ষায়।

পরিবারের বড় বোন রেজিয়া বেগম, ছোট বোন নাদিরা বেগম ও ছোট ভাই জয়নাল আবেদিন খন্দকারসহ আত্মীয়স্বজনের কাছে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরতার নাম। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন ৪ ছেলে ও ৪ কন্যা সন্তানের স্নেহশীল পিতা যাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ছিল দায়িত্ববোধ ও ত্যাগ।

ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও মননশীল শিক্ষার্থী। নাউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ১৯৬২ সালে এইচএসসি এবং নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
সে সময় গ্রাম থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন ছিল এক বিরল কৃতিত্ব আর সেই শিক্ষাকে নিজের উন্নতির জন্য নয়, সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজ এলাকার মানুষকে আলোকিত করাই হবে তাঁর জীবনের লক্ষ্য। ১৯৭১ সালে ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে শুরু হয় তাঁর শিক্ষকতা জীবন।

নিজে ছিলেন সেই বিদ্যালয়েরই গর্বিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি ইট-পাথর, প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ছিল তাঁর কাছে সন্তানের মতো। শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা এই তিনের সমন্বয়ে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য আলোকিত মানুষ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৯৭৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩৯ বছর শিক্ষকতা পেশায় থেকে তিনি শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় জীবনবোধ শিক্ষা দিয়েছেন।
শিক্ষার পাশাপাশি জনসেবাই ছিল তাঁর আরেকটি বড় অধ্যায়। ১৯৭২-৭৩ সালে রিলিফ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত একটানা নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন।
পরবর্তীতে দশ বছর বিরতি থাকলেও ১৯৯৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসীর প্রবল অনুরোধে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১১ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মোট ৬ মেয়াদে প্রায় ৩০ বছর ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যে সততা, স্বচ্ছতা ও মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত।

১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় মতলব থানার ২৭ সদস্য বিশিষ্ট সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি সংগঠক ও প্রেরণাদাতা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অস্ত্র হাতে যেমন সাহস দেখিয়েছেন, তেমনি সংগঠনের মধ্য দিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

সোমবার বাদ আসর নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
শেষ বিদায়ের সেই মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহযোদ্ধা, সহকর্মী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। যেন একটি যুগকে মাটিচাপা দেওয়া হলো।
মরহুমের ছেলে রেদোয়ান খন্দকার বলেন, আমার বাবা কখনো নিজের কথা ভাবেননি। মানুষের জন্য কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আনন্দ। আজ আমরা শুধু বাবাকে নয়, একজন আদর্শ মানুষকে হারালাম।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আবুল হোসেন খন্দকার ছিলেন নীরব নেতৃত্বের প্রতীক। প্রচার নয়, কাজ দিয়েই তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।
নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম তাইজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমাদের জন্য শুধু একজন সাবেক শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন প্রেরণা, অভিভাবক ও নৈতিক সাহসের উৎস। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।

তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন শিক্ষা, আদর্শ, সততা আর দেশপ্রেমে ভরা এক অনন্য উত্তরাধিকার। ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তা, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্মৃতিতে আজও বেঁচে থাকবেন মোহাম্মদ আবুল হোসেন খন্দকার। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও জনতার অভিভাবক আবুল হোসেন খন্দকার আর নেই

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের আকাশ থেকে নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ ও জনসেবার মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এক নির্লোভ, নিরহংকারী অথচ দৃঢ়চেতা মানুষের চিরবিদায়ে আজ শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা। বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা শিক্ষক ও দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি মোহাম্মদ আবুল হোসেন খন্দকার (বিএ) (৮৫) আর নেই।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ) ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের নয় একটি ইউনিয়ন, একটি প্রজন্ম এবং একটি ইতিহাসের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। বাদ আছর নাউরি আহমাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৪১ সালের ৪ মার্চ মতলব উত্তর উপজেলার ১১ নং পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নের ফৈলাকান্দি গ্রামের খন্দকার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হোসেন খন্দকার। পিতা মরহুম ইদ্রিস আলী খন্দকার ও মাতা মরহুমা তনজীবুন নেসার সন্তান হিসেবে তিনি বেড়ে ওঠেন সততা, শালীনতা ও মানবিকতার শিক্ষায়।

পরিবারের বড় বোন রেজিয়া বেগম, ছোট বোন নাদিরা বেগম ও ছোট ভাই জয়নাল আবেদিন খন্দকারসহ আত্মীয়স্বজনের কাছে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরতার নাম। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন ৪ ছেলে ও ৪ কন্যা সন্তানের স্নেহশীল পিতা যাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ছিল দায়িত্ববোধ ও ত্যাগ।

ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও মননশীল শিক্ষার্থী। নাউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ১৯৬২ সালে এইচএসসি এবং নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
সে সময় গ্রাম থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন ছিল এক বিরল কৃতিত্ব আর সেই শিক্ষাকে নিজের উন্নতির জন্য নয়, সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজ এলাকার মানুষকে আলোকিত করাই হবে তাঁর জীবনের লক্ষ্য। ১৯৭১ সালে ঐতিহ্যবাহী নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে শুরু হয় তাঁর শিক্ষকতা জীবন।

নিজে ছিলেন সেই বিদ্যালয়েরই গর্বিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি ইট-পাথর, প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ছিল তাঁর কাছে সন্তানের মতো। শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা এই তিনের সমন্বয়ে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য আলোকিত মানুষ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর তাঁকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। ১৯৭৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৩৯ বছর শিক্ষকতা পেশায় থেকে তিনি শুধু পাঠ্যপুস্তক নয় জীবনবোধ শিক্ষা দিয়েছেন।
শিক্ষার পাশাপাশি জনসেবাই ছিল তাঁর আরেকটি বড় অধ্যায়। ১৯৭২-৭৩ সালে রিলিফ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত একটানা নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন।
পরবর্তীতে দশ বছর বিরতি থাকলেও ১৯৯৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসীর প্রবল অনুরোধে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আবার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১১ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মোট ৬ মেয়াদে প্রায় ৩০ বছর ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যে সততা, স্বচ্ছতা ও মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত।

১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় মতলব থানার ২৭ সদস্য বিশিষ্ট সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি সংগঠক ও প্রেরণাদাতা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অস্ত্র হাতে যেমন সাহস দেখিয়েছেন, তেমনি সংগঠনের মধ্য দিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

সোমবার বাদ আসর নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
শেষ বিদায়ের সেই মুহূর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহযোদ্ধা, সহকর্মী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। যেন একটি যুগকে মাটিচাপা দেওয়া হলো।
মরহুমের ছেলে রেদোয়ান খন্দকার বলেন, আমার বাবা কখনো নিজের কথা ভাবেননি। মানুষের জন্য কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র আনন্দ। আজ আমরা শুধু বাবাকে নয়, একজন আদর্শ মানুষকে হারালাম।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আবুল হোসেন খন্দকার ছিলেন নীরব নেতৃত্বের প্রতীক। প্রচার নয়, কাজ দিয়েই তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।
নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম তাইজুল ইসলাম বলেন, তিনি আমাদের জন্য শুধু একজন সাবেক শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন প্রেরণা, অভিভাবক ও নৈতিক সাহসের উৎস। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়।

তিনি চলে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন শিক্ষা, আদর্শ, সততা আর দেশপ্রেমে ভরা এক অনন্য উত্তরাধিকার। ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তা, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি স্মৃতিতে আজও বেঁচে থাকবেন মোহাম্মদ আবুল হোসেন খন্দকার। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন