মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, ফার্মেসিতেও মিলছে না
- আপডেট সময় : ০৭:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯৫

মমিনুল ইসলাম:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রায় তিন বছর ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তো বটেই, গত এক মাস ধরে উপজেলার প্রায় সব বেসরকারি ফার্মেসিতেও মিলছে না এই জীবনরক্ষাকারী টিকা। ফলে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য পশুর কামড়ে আহত রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন রোগী পশুর কামড়ের পর চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলেও ভ্যাকসিন সংকটের কারণে তারা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী অভিভাবক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমার সন্তানকে কুকুর কামড়িয়েছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরেও পাইনি। এখন আমরা চরম আতঙ্কে আছি।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, জলাতঙ্ক যে শতভাগ প্রাণঘাতী, তা সবাই জানে। অথচ তিন বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকা আমাদের জন্য ভয়ংকর পরিস্থিতি।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মোহন মিয়াজী বলেন, গত এক থেকে দুই মাস ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সাপ্লাই নেই। কোম্পানি থেকেই সরবরাহ বন্ধ। প্রতিদিন অনেক মানুষ এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে খান ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী আজমল হোসেন খান জানান, আমি কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে অল্প কিছু ভ্যাকসিন এনেছিলাম, সেটাও এখন প্রায় শেষ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত মতলব উত্তর উপজেলায় পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এভাবে সংকট চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই অবিলম্বে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিন বছর ধরে চলমান জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি নয়, এটি মতলব উত্তরের হাজারো মানুষের জীবনের ওপর ঝুলে থাকা এক নীরব মৃত্যুঝুঁকি। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই অবহেলা যে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে, সে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ সবাই।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য যদি সময়মতো ভ্যাকসিন নেওয়া যায়। পশুর কামড়ের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সংকট থাকায় মতলব উত্তরের মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসের পর থেকে এখানে আর কোনো জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন আসেনি। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, বাস্তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকেই আমরা কোনো রেবিস ভ্যাকসিন পাইনি। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
ফলে প্রতিদিন পশুর কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মতলব উত্তরের বেসরকারি ক্লিনিক বা দূরের শহরে ছুটছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মতলব উত্তর নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানে এন্টি-ভেনমের চাহিদা বেশি ছিল, তাই গত অর্থবছরে আমরা এন্টি-ভেনম পেয়েছি। পাশাপাশি কুকুরদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।



























