০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

পরকীয়া প্রেমিকের হাতে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া খুন: ১০ দিনের তদন্তে রহস্য উদঘাটন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৯৮

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যা মামলার ১০ দিনের মাথায় হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্য-প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ান (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন ও বিক্রি করা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি।

‎বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই এর ইন্সপেক্টর (প্রাশাসন) মিন্টু কুমার।

‎পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে সাদিয়ার সঙ্গে ইব্রাহিমের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, ইব্রাহিম আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে ইব্রাহিমকে ডিভোর্স দেন সাদিয়া।

‎এরপর পরিচয় গোপন করে অবিবাহিত দাবি করা আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

‎তদন্তে উঠে আসে, গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু রাজ্জাক তাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ ঘরে ফেলে রেখে নিহতের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

‎হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হলে ১৬ জুলাই পিবিআই মামলাটি অধিগ্রহণ করে। প্রথমে এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানকে শনাক্ত করা হয়।

‎পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তির আসা-যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পরে নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যা তাহিয়া জানায়, ওই ব্যক্তি “আরিয়ান চাচ্চু” নামে তাদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। এই তথ্যকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজ্জাকের অবস্থান নিশ্চিত করে ২১ জুলাই কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

‎পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরকীয়া প্রেমিকের হাতে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া খুন: ১০ দিনের তদন্তে রহস্য উদঘাটন

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আলোচিত গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যা মামলার ১০ দিনের মাথায় হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্য-প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পরকীয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ান (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন ও বিক্রি করা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আসামি।

‎বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই এর ইন্সপেক্টর (প্রাশাসন) মিন্টু কুমার।

‎পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে সাদিয়ার সঙ্গে ইব্রাহিমের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, ইব্রাহিম আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে ইব্রাহিমকে ডিভোর্স দেন সাদিয়া।

‎এরপর পরিচয় গোপন করে অবিবাহিত দাবি করা আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

‎তদন্তে উঠে আসে, গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু রাজ্জাক তাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ ঘরে ফেলে রেখে নিহতের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

‎হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হলে ১৬ জুলাই পিবিআই মামলাটি অধিগ্রহণ করে। প্রথমে এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানকে শনাক্ত করা হয়।

‎পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তির আসা-যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পরে নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যা তাহিয়া জানায়, ওই ব্যক্তি “আরিয়ান চাচ্চু” নামে তাদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। এই তথ্যকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজ্জাকের অবস্থান নিশ্চিত করে ২১ জুলাই কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

‎পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।