বিকল্প রাজনীতির কথা ভেবেছিলেন ডা. বি. চৌধুরী : ওবায়দুর রহমান
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / ৪৩

প্রতিদিনের নিউজ:
আগামীকাল ৮ মে,শুক্রবার বিকল্পধার বাংলাদেশের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৪ সালের ৮ মে বিকল্পধারা প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক (ডা.) একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ডা.বি.চৌধুরী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহবানে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি শহীদ জিয়ার খুবই বিশ্বস্ত এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা সহকর্মী ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়বাদ ধারার রাজনীতির অন্যতম ধারক ও সহযোগী ছিলেন।
জিয়াউর রহমান সৎ ও আদর্শিক রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে শহীদ জিয়ার শাসন আমল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন ডা. বি. চৌধুরী।
তিনিও জিয়াউর রহমানের মত নির্লোভ রাজনীতিবিদ ছিলেন। যারফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট জিয়া ও ডা. বি চৌধুরী’র যুগলবন্দী দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক কালো অধ্যায় সূচনা হয়। যা নিরসনে এদেশের ছাত্র জনতাকে প্রায় এক দশক লড়াই সংগ্রাম করতে হয়। তারপর ৯০ সালের শেষে এসে এরশাদের পতন হয়। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে খালেদা নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। ডা. বি. চৌধুরী সেই সংসদে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০০১ সালে নির্বাচনে আবারো বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু ডা. বি. চৌধুরীর উচ্চ রাজনৈতিক মতাদর্শ তৎকালীন বিএনপি’র রাজনীতিবিদরা সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তিনি চেয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি যেহেতু একটি অরাজনৈতিক রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব। সেজন্য তিনি একটি নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে তৎপর ছিলেন।
কিন্তু তাঁর দীর্ঘ আদর্শিক পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে বিএনপির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এবং ডা. বি. চৌধুরী স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর মেয়াদকাল ছিল মাত্র ৬ মাস। ডা. বি. চৌধুরী, যিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহযোদ্ধা ও ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির জিয়ার চিন্তা-চেতনার প্রবাহকে এগিয়ে নিতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।
তিনি উপলব্ধি করেন রাষ্ট্রপতি জিয়ার আদর্শে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি সঠিক পথে চলছে না। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি চুপচাপ বসে থাকতে পারলেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশে যে আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার রাজনীতি শুরু হয়েছে তা চলতে থাকলে দেশ কোনভাবেই সামনের দিকে এগুতে পারবে না।
সেজন্য তিনি প্রচলিত ধারার রাজনীতির সঠিক বিকল্প রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের মাঝে একটি বার্তা পাঠান। তাঁর সেই বার্তা জনগণের মাঝে বিশেষ করে সচেতন নাগরিকদের মাঝে বিপুল আগ্রহ সৃষ্টি করলে তিনি একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার কথা ভাবেন। এবং রাজনৈতিক দলের সাথে বিকল্প শব্দটি যুক্ত করার বাসনা প্রকাশ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে তিনি ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই দলে যুক্ত হওয়ার জন্য মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এমপি এবং মাহী বি চৌধুরী এমপি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব নির্বাচিত হন মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। মাহী বি চৌধুরী দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। শুরু হয় একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের শুভ সূচনা।
কালের পরিক্রমায় ডা. বি. চৌধুরী’র স্বপ্ন ‘শান্তি-সুখের বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় আজও প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে গেছে। কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতির দেয়াল বড় মজবুত। এ দেয়াল ভেঙে ফেলার জন্য যে রকম রাজনৈতিক সাহস ও প্রজ্ঞা থাকা দরকার সে রকম রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশে গড়ে উঠতে পারেনি।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ওবায়দুর রহমান মৃধা বিশ্বাস করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডা. বি. চৌধুরীর দেখানো উদার গণতান্ত্রিক দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দারিদ্রমুক্ত একটি শান্তি-সুখের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতৃত্ব সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে পারে না। যেখানে দেড় হাজার মানুষ প্রাণ দিলো দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। এই আত্মত্যাগ ব্যর্থ হতে পারে না।
একবার গণঅভ্যুত্থানে আহতদের কথা ভাবুন? জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদরা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম সব ধরনের লোভ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। হতাশা নয় আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহ অবস্থানের বাংলাদেশ চাই। সবার জন্য বাংলাদেশ চাই।


























