০৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

বারহাট্টায় বৃষ্টিতে জমির ধান হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / ৪৭

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুখলেছুর রহমান হীরা:

নেত্রকোনার একটি দরিদ্র উপজেলা বারহাট্টা।উপজেলাটির চারপাশে ঘিরে রেখেছে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি নদ-নদী।তাই প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢলে কম বেশি কয়ক্ষতি হয় উপজেলার কৃষকদের।তবে চলতি বোরো মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।সর্বশেষ জড়িপে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৩৬৫টি কৃষক পরিবারের ৫৮২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পরেছে।অথচ এই ধানের উপরই নির্ভর করে দরিদ্র উপজেলাটির মানুষদের সারা বছরের শিক্ষা, চিকিৎসা সহ সকল খরচ।এমনকি অনেক কৃষকই মহাজনদের কাছ থেকে ছড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমি চাষ করেছিলেন।অসময়ে বৃষ্টিতে জমির ধান নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।মহাজনরাও চাপ দিচ্ছে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বারহাট্টা উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

অসময়ের বৃষ্টিতে উপজেলার সাত ইউনিয়নের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত।সর্বশেষ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গেলে কৃষকদের অসহায়ত্ব ফুটে উঠে। কৃষকরা না পেরেছেন গো খাদ্য সংগ্রহ করতে না পেরেছেন ঘরে ধান তুলতে না পারছেন ঋণ পরিশোধ করতে।

আসমা ইউনিয়নের সিংগুয়ার বিলে গেলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।পঁচে যাওয়া ধান পানির নিচ থেকে গরু দিয়ে মাড়াই করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।শেষ চেষ্টা যদি কিছু ধানও বাঁচানো যায়।

এসময় কথা হয় কৃষক আতাউর রহমান ও আরিফ মিয়ার সাথে। তারা জানান মহাজনের কাছ থেকে সুদের টাকায় ঋণ করে জমি লাগিয়েছেন।কিন্তুু অসময়ের বৃষ্টিতে জমা পানিতে তার সব জমির ধানই ডুবে যায়।পানির বৃদ্ধির সময় ধান কাটার শ্রমিকও পাননি তারা।তাই সব আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজেরাই কলাগাছের ভেলা বানিয়ে কিছু ধান কেটে সংগ্রহ করেছেন।সেগুলো গরুর সাহায্যে মাড়াই করার চেষ্টা করছেন।

একই অবস্থা সিংধা, চিরম সহ উপজেলার অন্য ইউনিয়ন গুলোতেও।ধান কাটার শ্রমিক সংকট ও হার্ভেস্টার সংকটে বিশাল ক্ষতির মুখে পরেছেন কৃষকরা।

উপজেলার সকল ইউনিয়নেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবী উপজেলা থেকে যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হয়েছে তা সঠিক নয়।বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরো অনেক বেশি বলে দাবী ভুক্তভোগী কৃষকদের ।

বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান বারহাট্টা উপজেলা কৃষি সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।ইতিমধ্যেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে।বারহাট্টা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে আছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

বারহাট্টায় বৃষ্টিতে জমির ধান হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মুখলেছুর রহমান হীরা:

নেত্রকোনার একটি দরিদ্র উপজেলা বারহাট্টা।উপজেলাটির চারপাশে ঘিরে রেখেছে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি নদ-নদী।তাই প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢলে কম বেশি কয়ক্ষতি হয় উপজেলার কৃষকদের।তবে চলতি বোরো মৌসুমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।সর্বশেষ জড়িপে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার ৩৬৫টি কৃষক পরিবারের ৫৮২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পরেছে।অথচ এই ধানের উপরই নির্ভর করে দরিদ্র উপজেলাটির মানুষদের সারা বছরের শিক্ষা, চিকিৎসা সহ সকল খরচ।এমনকি অনেক কৃষকই মহাজনদের কাছ থেকে ছড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমি চাষ করেছিলেন।অসময়ে বৃষ্টিতে জমির ধান নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।মহাজনরাও চাপ দিচ্ছে সুদের টাকা পরিশোধের জন্য।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বারহাট্টা উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

অসময়ের বৃষ্টিতে উপজেলার সাত ইউনিয়নের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত।সর্বশেষ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গেলে কৃষকদের অসহায়ত্ব ফুটে উঠে। কৃষকরা না পেরেছেন গো খাদ্য সংগ্রহ করতে না পেরেছেন ঘরে ধান তুলতে না পারছেন ঋণ পরিশোধ করতে।

আসমা ইউনিয়নের সিংগুয়ার বিলে গেলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।পঁচে যাওয়া ধান পানির নিচ থেকে গরু দিয়ে মাড়াই করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।শেষ চেষ্টা যদি কিছু ধানও বাঁচানো যায়।

এসময় কথা হয় কৃষক আতাউর রহমান ও আরিফ মিয়ার সাথে। তারা জানান মহাজনের কাছ থেকে সুদের টাকায় ঋণ করে জমি লাগিয়েছেন।কিন্তুু অসময়ের বৃষ্টিতে জমা পানিতে তার সব জমির ধানই ডুবে যায়।পানির বৃদ্ধির সময় ধান কাটার শ্রমিকও পাননি তারা।তাই সব আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পর নিজেরাই কলাগাছের ভেলা বানিয়ে কিছু ধান কেটে সংগ্রহ করেছেন।সেগুলো গরুর সাহায্যে মাড়াই করার চেষ্টা করছেন।

একই অবস্থা সিংধা, চিরম সহ উপজেলার অন্য ইউনিয়ন গুলোতেও।ধান কাটার শ্রমিক সংকট ও হার্ভেস্টার সংকটে বিশাল ক্ষতির মুখে পরেছেন কৃষকরা।

উপজেলার সকল ইউনিয়নেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবী উপজেলা থেকে যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হয়েছে তা সঠিক নয়।বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরো অনেক বেশি বলে দাবী ভুক্তভোগী কৃষকদের ।

বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান বারহাট্টা উপজেলা কৃষি সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।ইতিমধ্যেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে।বারহাট্টা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে আছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন