০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিং ও মারধরের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১০:০২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / ৪৪

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় স্কুলে যাতায়াতের পথে দুই স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ইভটিজিং ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা শাহনাজ আক্তার ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর সরদারকান্দি এলাকায় অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করা হতো। গত ২ মে বিকেলে ফরাজীকান্দি মাদ্রাসা সংযোগ সড়কে তাদের পথরোধ করে ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে ছাত্রীদের ও তাদের স্বজনদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে আমাকে নিয়মিত ইভটিজিং করা হতো। ঘটনার দিন ফরাজিকান্দি মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের ভিডিও করা হলে বাধা দিই। তখন আমাদের মারধর করা হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগকারী শাহনাজ আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েদের উত্যক্ত করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানালেও তারা থামেনি। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
তবে অভিযুক্ত মো. মমিন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরে শুনেছি, মেয়েগুলো আমার ফুপাতো বোন শিরিনা আক্তারের সঙ্গে মাহফিলের তাবারুক নিয়ে ঝামেলায় জড়ায়। পরবর্তীতে বাড়ি ফেরার পথে আবারও তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর আমি থানার ওসিকে অবহিত করি। পরে এসআই জাফর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি মীমাংসা করেন। কিন্তু বাদীপক্ষ যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং বাদীপক্ষের খালা ও দুই বোনের আঘাতে শিরিনা আক্তার আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয় এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। আমাকে ও আমার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ইভটিজিংয়ের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিং ও মারধরের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট সময় : ১০:০২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় স্কুলে যাতায়াতের পথে দুই স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ইভটিজিং ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা শাহনাজ আক্তার ৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর সরদারকান্দি এলাকায় অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করা হতো। গত ২ মে বিকেলে ফরাজীকান্দি মাদ্রাসা সংযোগ সড়কে তাদের পথরোধ করে ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে ছাত্রীদের ও তাদের স্বজনদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে যাতায়াতের পথে আমাকে নিয়মিত ইভটিজিং করা হতো। ঘটনার দিন ফরাজিকান্দি মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের ভিডিও করা হলে বাধা দিই। তখন আমাদের মারধর করা হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগকারী শাহনাজ আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েদের উত্যক্ত করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানালেও তারা থামেনি। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
তবে অভিযুক্ত মো. মমিন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। পরে শুনেছি, মেয়েগুলো আমার ফুপাতো বোন শিরিনা আক্তারের সঙ্গে মাহফিলের তাবারুক নিয়ে ঝামেলায় জড়ায়। পরবর্তীতে বাড়ি ফেরার পথে আবারও তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানার পর আমি থানার ওসিকে অবহিত করি। পরে এসআই জাফর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি মীমাংসা করেন। কিন্তু বাদীপক্ষ যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং বাদীপক্ষের খালা ও দুই বোনের আঘাতে শিরিনা আক্তার আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয় এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। আমাকে ও আমার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ইভটিজিংয়ের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন