স্বর্ণব্যবসায়ী হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ২০

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ওমর সরকারকে (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যার অপরাধে জয় বিশ্বাস অনিককে (২১) মৃত্যুদন্ড, ১০হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড, অপর ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় অপর আসামী হৃদয় সূত্রধর (২১) নামে আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) মো. কামাল হোসাইন এই রায় দেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী জয় বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার সুভারিয়া সরকার বাড়ির অর্জুন বিশ্বাসের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী হৃদয় সূত্রধর মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর সারপাড় এলাকার গোপাল সূত্রধরের ছেলে। হত্যার শিকার ব্যবসায়ী ওমর সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলার সারপাড় এলাকার শ্রী রবি ভক্তের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাত ১২টার পর হতে ২টার মধ্যে ওমর সরকার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাধবী শিল্পালয় থেকে বাড়িতে আসার পথে উভয় আসামী যোগসাজসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। ওই রাতেই ঘটনাটি আড়াল করার জন্য জয় বিশ্বাস অনিক নিজেই ওমর সরকারকে কে বা কারা হত্যা করেছে এমন সংবাদ পৌঁছায় তার বাবার কাছে। তখন রবি ভক্ত ও তার বড় ছেলে জীবন কৃষ্ণ বাড়ি থেকে প্রায় ৮০গজ দূরে দাস বাড়ির উঠানে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে ওমর সরকারের বাবা রবি ভক্ত। মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত উল্লেখিত আসামী হৃদয়কে ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং জয় বিশ্বাসকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির তদন্ত করেন তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সালমা বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় বিচারক এই রায় দেন। রায়ের সময় মৃত্যুতদন্ডপ্রাপ্ত আসামী জয় বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামী হৃদয় জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
আসামী পক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।



















