পূবাইলে ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০১

রবিউল আলম:
ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এস এম নজরুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী, ১৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, হোম অ্যান্ড কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও ডিজিটাল ডিভাইস পণ্য উৎপাদন শিল্পের পথিকৃৎ।
বুধবার বিকেলে গাজীপুরের পূবাইল মিরের বাজারে ওয়াল্টন প্লাজায় এস এম নজরুল ইসলামের স্মরণে শোক দিবস পালনের পাশাপাশি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মিরের বাজার জামে মসজিদের খতীব মুফতি মাওলানা মাহামুদুল্লাহ।
উক্ত মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, মীরের বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ বিল্লাল হোসেন,কোষাধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম সহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আয়োজনে ছিলেন মীরের বাজার ওয়াল্টন প্লাজার ম্যানেজার জনাব মোঃ ইলিয়াস।
২০১৭ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এস এম নজরুল ইসলাম। কর্মজীবনে অত্যন্ত সফল ছিলেন এসএম নজরুল ইসলাম। প্রথমে বাবা এস এম আতাহার আলী তালুকদারের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত হলেও স্বাধীনতার পর আলাদাভাবে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। সৎ, নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান সব মহলে। যে ব্যবসাতেই হাত দিয়েছেন, সফলতা পেয়েছেন সেখানেই।
দেশের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে এস এম নজরুল ইসলাম ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রেজভী অ্যান্ড ব্রাদার্স, সংক্ষেপে আরবি গ্রুপ। পরবর্তীতে তা নাম বদলে হয়ে যায় ওয়ালটন গ্রুপ। ২০০৮ সালে গাজীপুরের চন্দ্রায় নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন শুরু হয় ওয়ালটন পণ্যের। সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের পণ্য এবং সেবা দিয়ে ওয়ালটন জয় করে নেয় গ্রাহকের আস্থা।
এম নজরুল ইসলামের দূরদর্শিতা ও সুযোগ্য পরিচালনায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ওয়ালটন পণ্যের সুনাম ও খ্যাতি আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওয়ালটন এখন বিশ্বের কাছে শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশের ইতিবাচক ইমেজ তুলে ধরছে। বাংলাদেশও যে পারে বিশ্বের কাছে সেটিই প্রমাণ করছে মেড ইন বাংলাদেশ খ্যাত ওয়ালটন পণ্য। ওয়ালটনকে এগিয়ে নিতে বিশাল ভূমিকা রাখছেন তাঁর মেধাবী সন্তানরা।
ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি এস এম নজরুল ইসলাম বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, টাঙ্গাইল জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের পরিচালক এবং টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জমি বন্ধকি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম নিজের গ্রামে এস এম নজরুল ইসলাম কারিগরি বিদ্যালয় নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এতিমখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সহযোগিতা দিতেন। তিনি গ্রামের দুস্থ, বৃদ্ধ ও নারীদের জন্য বয়স্ক ভাতা প্রকল্প চালু করেন।
প্রয়াণ দিবসে নজরুল ইসলামকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন ওয়ালটন পরিবারের সদস্যরা।



























