০৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতলব উত্তরে ইংরেজি ভার্সন স্কুলের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে অভিভাবকদের সংবাদ সম্মেলন

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫১

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ইংরেজি ভার্সন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দি কার্টার একাডেমি’র অধ্যক্ষ মো. তামসুল রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থী হয়রানি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক সদস্য মো. রাব্বানী সরকার। লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়। সম্প্রতি কয়েকটি ল্যাপটপ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এছাড়া ইংরেজি ভার্সন প্রতিষ্ঠান হলেও দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ইংরেজি শিক্ষক নেই বলে অভিযোগ করা হয়। শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা, ফর্ম-ফিলাপ ও রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কোচিং ফি বাবদ নেওয়া অর্থের সুষম বণ্টন না করার অভিযোগও করেন অভিভাবকরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের বা বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রায় এক বছর আগে খাবার খেয়ে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, অধ্যক্ষের পছন্দের শিক্ষকদের নিয়ে একটি বলয় তৈরি করে প্রাইভেট টিউশন বণ্টনে পক্ষপাতিত্ব করা হয়। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাইরের শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর ক্ষেত্রেও অনুমতির প্রয়োজন হয় বলে দাবি করেন তারা।

আবাসিক শাখার এডজুটেন্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলে অভিভাবকরা বলেন, এসব কারণে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ডর্ম ছেড়ে চলে গেছে।

অভিভাবক সদস্য মো. রাব্বানী সরকার বলেন, অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর জবাব ও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অভিভাবকরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক সদস্য মো. মাইনউদ্দিন, নাজমুল হাসান, নাজমুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, বাবু প্রধান, সাইদ সরকার, নোমান প্রধান, কোহিনূর আক্তারসহ স্থানীয় অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দি কার্টার একাডেমির অধ্যক্ষ মো. তামসুল রাব্বানী। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা পর্ষদের নিয়মনীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

ল্যাপটপের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকটি ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে দুটি ল্যাপটপ শিক্ষার্থীদের ব্যাগের মধ্যে পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

খাবারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে দুপুরের খাবারের কিছু অংশের ভাত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এটি নিয়মিত খাবারের বিষয় নয়। ছাত্রাবাসে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই রান্না করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করি।

অধ্যক্ষের দাবি, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগও সঠিক নয়। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

 

মতলব উত্তরে ইংরেজি ভার্সন স্কুলের অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে অভিভাবকদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ইংরেজি ভার্সন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দি কার্টার একাডেমি’র অধ্যক্ষ মো. তামসুল রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থী হয়রানি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক সদস্য মো. রাব্বানী সরকার। লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়। সম্প্রতি কয়েকটি ল্যাপটপ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এছাড়া ইংরেজি ভার্সন প্রতিষ্ঠান হলেও দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ইংরেজি শিক্ষক নেই বলে অভিযোগ করা হয়। শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা, ফর্ম-ফিলাপ ও রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কোচিং ফি বাবদ নেওয়া অর্থের সুষম বণ্টন না করার অভিযোগও করেন অভিভাবকরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের বা বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রায় এক বছর আগে খাবার খেয়ে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলেও দাবি করেন তারা।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, অধ্যক্ষের পছন্দের শিক্ষকদের নিয়ে একটি বলয় তৈরি করে প্রাইভেট টিউশন বণ্টনে পক্ষপাতিত্ব করা হয়। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাইরের শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানোর ক্ষেত্রেও অনুমতির প্রয়োজন হয় বলে দাবি করেন তারা।

আবাসিক শাখার এডজুটেন্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলে অভিভাবকরা বলেন, এসব কারণে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ডর্ম ছেড়ে চলে গেছে।

অভিভাবক সদস্য মো. রাব্বানী সরকার বলেন, অভিযোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর জবাব ও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অভিভাবকরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক সদস্য মো. মাইনউদ্দিন, নাজমুল হাসান, নাজমুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, বাবু প্রধান, সাইদ সরকার, নোমান প্রধান, কোহিনূর আক্তারসহ স্থানীয় অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দি কার্টার একাডেমির অধ্যক্ষ মো. তামসুল রাব্বানী। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা পর্ষদের নিয়মনীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

ল্যাপটপের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকটি ল্যাপটপ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে দুটি ল্যাপটপ শিক্ষার্থীদের ব্যাগের মধ্যে পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

খাবারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে দুপুরের খাবারের কিছু অংশের ভাত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এটি নিয়মিত খাবারের বিষয় নয়। ছাত্রাবাসে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই রান্না করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করি।

অধ্যক্ষের দাবি, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগও সঠিক নয়। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।