১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৮

প্রতিদিনের নিউজ:

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারীদের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।

কনিবার,২৯ দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এ অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মধ্যে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।’

তিনি বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায়, কী অবস্থায় আছে-একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা, যাতে আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মধ্যে নেই। যারা আছে, তাদের বলবো, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, সরকার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলবো, আপনাদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং উৎসাহ দেবেন। যাতে শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা, তা পূরণে আমরা কাজ করতে পারি। আপনাদের সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোস্তফা জুলফিকার হাসান, সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশের মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিদিনের নিউজ:

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারীদের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে।

কনিবার,২৯ দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের এ অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মধ্যে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। যে অপূরণীয় ক্ষতি আপনাদের হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।’

তিনি বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায়, কী অবস্থায় আছে-একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা, যাতে আল্লাহ তাদের সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মধ্যে নেই। যারা আছে, তাদের বলবো, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।’

সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, সরকার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলবো, আপনাদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।’

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং উৎসাহ দেবেন। যাতে শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা, তা পূরণে আমরা কাজ করতে পারি। আপনাদের সর্বাত্মক সমর্থন যেন আমরা পাই।’

অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোস্তফা জুলফিকার হাসান, সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।