১১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুরে স্বামীর পরকীয়া বাধা দেয়ায় প্রাণ গেল স্ত্রী’র;কচুয়ায় শোকের মাতম

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৪

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেঙ্গুয়া গ্রামের গাজী বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি। মায়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার পর থেকে দুই শিশু সন্তান বারবার মাকে খুঁজছে। চার বছরের তাবাসসুম আর এক বছরের আলিফা আক্তারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

তারা জানে না, যে মা তাদের আদর-যত্নে আগলে রাখতেন, সেই মা আর কখনো তাদের কাছে ফিরে আসবেন না।

নিহত সুমি আক্তারের বয়স মাত্র ২৪ বছর। তিনি কচুয়া উপজেলার সেঙ্গুয়া গ্রামের শহীদ গাজীর মেয়ে। প্রায় ছয় বছর আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের হারুনের ছেলে মতিন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর সংসার ভালোভাবেই চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তাদের ঘরে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান-তাবাসসুম ও আলিফা। তবে সময়ের সঙ্গে সংসারে নেমে আসে অশান্তি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী মতিন মিয়া অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে সুমি আক্তার প্রতিবাদ করলে সংসারে কলহ শুরু হয়। পরিবারের দাবি, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সুমিকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট বুধবার সকাল ১১টার দিকে কালিকাপুর গ্রামের গাজী বাড়িতে সুমির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

সুমির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাবার বাড়ি সেঙ্গুয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মায়ের মরদেহ ঘিরে ছোট্ট দুই সন্তানকে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা শহীদ গাজী ও স্বজনদের অভিযোগ, সুমি আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ঘটনার পর নিহতের স্বামী মতিন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগ গুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সুমি আক্তারের পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদপুরে স্বামীর পরকীয়া বাধা দেয়ায় প্রাণ গেল স্ত্রী’র;কচুয়ায় শোকের মাতম

আপডেট সময় : ০৯:১৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেঙ্গুয়া গ্রামের গাজী বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি। মায়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার পর থেকে দুই শিশু সন্তান বারবার মাকে খুঁজছে। চার বছরের তাবাসসুম আর এক বছরের আলিফা আক্তারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

তারা জানে না, যে মা তাদের আদর-যত্নে আগলে রাখতেন, সেই মা আর কখনো তাদের কাছে ফিরে আসবেন না।

নিহত সুমি আক্তারের বয়স মাত্র ২৪ বছর। তিনি কচুয়া উপজেলার সেঙ্গুয়া গ্রামের শহীদ গাজীর মেয়ে। প্রায় ছয় বছর আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের হারুনের ছেলে মতিন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর সংসার ভালোভাবেই চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। তাদের ঘরে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান-তাবাসসুম ও আলিফা। তবে সময়ের সঙ্গে সংসারে নেমে আসে অশান্তি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী মতিন মিয়া অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে সুমি আক্তার প্রতিবাদ করলে সংসারে কলহ শুরু হয়। পরিবারের দাবি, পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সুমিকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট বুধবার সকাল ১১টার দিকে কালিকাপুর গ্রামের গাজী বাড়িতে সুমির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

সুমির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাবার বাড়ি সেঙ্গুয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মায়ের মরদেহ ঘিরে ছোট্ট দুই সন্তানকে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা শহীদ গাজী ও স্বজনদের অভিযোগ, সুমি আক্তারকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ঘটনার পর নিহতের স্বামী মতিন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগ গুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সুমি আক্তারের পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।