কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর চুরির রহস্য উদ্ঘাটন: সোনা উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার-২
- আপডেট সময় : ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ২২

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় অভিনব কায়দায় বাসায় ঢুকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সর্বস্ব লুটের ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত মো. ইব্রাহিম (৫০) ও মো. বিল্লাল হোসেন (৪০) নামের দুই চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ৩ ভরি ১ আনা ৪ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কচুয়া পৌরসভাস্থ ওয়ালটন প্লাজার পাশের একটি বিল্ডিংয়ের বাসিন্দা এবং করইশ গ্রামের মৃত ডাক্তার ফজর আলীর ছেলে মোহাম্মাদ নুরুল ইসলাম (৪৮)। গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন ব্যক্তি বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তার বাসায় প্রবেশ করে।
পরে কৌশলে গৃহবধূর সাথে কথা বলার একপর্যায়ে তাদের খাবারে ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে চক্রটি। সুযোগ বুঝে ঘরের আলমারিতে থাকা ৬ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা) এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৫৮)। ঘটনার পর চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কচুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুবেল সরকার ও এসআই রুহুল আমিনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার নিকলি ইউনিয়নের মৃত আকবর আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম ও মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই উপজেলার বাসিন্দা মহর মিয়ার ছেলে মো. বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি হওয়া ৩ ভরি ১ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















