১১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

‎সিদ্ধিরগঞ্জে যুবককে বিদেশে নিয়ে জিম্মি; ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে মামলা

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / ৬৪

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‎সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:

‎নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে উন্নত চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে মো. রায়হান শরীফ নামে এক যুবককে পাপুয়া নিউ গিনিতে নিয়ে জিম্মি করে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং বেতনসহ প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মানব পাচার চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতে দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর- ৪৮১/২৬। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে।

‎মামলার বাদী সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সায়হান (৩৭)। মামলার আসামিরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড মন্ডলপাড়া এলাকার মো. সাইফুল মন্ডল (৩৬) ও তার বোন বিথী আক্তার।

‎মামলায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১(ক), (খ), (ঘ), ৩৪ ও ৩৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, আসামি সাইফুল মন্ডল ভুক্তভোগী রায়হান শরীফের পরিচিত বন্ধু ছিলেন। সেই সুযোগে তিনি পাপুয়া নিউ গিনিতে ‘আল-রাফি ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখান। পরে ২০২৪ সালের ২৯ মে একটি চুক্তির মাধ্যমে প্রথম দফায় ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

এরপর রায়হানকে পাপুয়া নিউ গিনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় ১৫ মাস চাকরি করেন এবং তার বেতন বাবদ প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল মন্ডল তাকে মাত্র ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাকি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে জিম্মি করে রাখেন।

‎পরবর্তীতে ব্যবসার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো, বেতন ও ব্যবসার নামে মোট ৩৪ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

‎এদিকে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আসামিরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে রায়হানকে ফেরত আনার দাবি জানানো হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।

‎মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ২ মে সকালে আসামিপক্ষের লোকজন বাদীর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। তারা বলে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রায়হানকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেন।

‎ভুক্তভোগীর পরিবার রায়হান শরীফের দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা কামনা করেছেন।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

‎সিদ্ধিরগঞ্জে যুবককে বিদেশে নিয়ে জিম্মি; ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে মামলা

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‎সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:

‎নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে উন্নত চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে মো. রায়হান শরীফ নামে এক যুবককে পাপুয়া নিউ গিনিতে নিয়ে জিম্মি করে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং বেতনসহ প্রায় ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মানব পাচার চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতে দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর- ৪৮১/২৬। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে।

‎মামলার বাদী সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাগলা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সায়হান (৩৭)। মামলার আসামিরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড মন্ডলপাড়া এলাকার মো. সাইফুল মন্ডল (৩৬) ও তার বোন বিথী আক্তার।

‎মামলায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১(ক), (খ), (ঘ), ৩৪ ও ৩৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, আসামি সাইফুল মন্ডল ভুক্তভোগী রায়হান শরীফের পরিচিত বন্ধু ছিলেন। সেই সুযোগে তিনি পাপুয়া নিউ গিনিতে ‘আল-রাফি ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখান। পরে ২০২৪ সালের ২৯ মে একটি চুক্তির মাধ্যমে প্রথম দফায় ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

এরপর রায়হানকে পাপুয়া নিউ গিনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় ১৫ মাস চাকরি করেন এবং তার বেতন বাবদ প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল মন্ডল তাকে মাত্র ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাকি ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে জিম্মি করে রাখেন।

‎পরবর্তীতে ব্যবসার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানো, বেতন ও ব্যবসার নামে মোট ৩৪ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

‎এদিকে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আসামিরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে রায়হানকে ফেরত আনার দাবি জানানো হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।

‎মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ২ মে সকালে আসামিপক্ষের লোকজন বাদীর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। তারা বলে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রায়হানকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেন।

‎ভুক্তভোগীর পরিবার রায়হান শরীফের দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতা কামনা করেছেন।



সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন