০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় মারা গেলেন ছেংগারচরের সাবেক দুইবারের মেয়র রফিকুল আলম জজ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / ১১

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ছেংগারচর পৌরসভার সাবেক দুইবারের মেয়র, ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব রফিকুল আলম জজ (৭২) মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার জেঠাতো ভাই মো. মিরাজ।
তিনি বলেন, ভাই দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। মরদেহ বাংলাদেশে আনতে দু-একদিন সময় লাগতে পারে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ গ্রাম জজনগরেই তাকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তিনি পৌর এলাকার জজ নগর গ্রামের মরহুম আবু নাছের ওয়াহেদ এর সন্তান।

রফিকুল আলম জজ ছিলেন জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও জজ আইডিয়াল কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা। রাজনৈতিক জীবনে রফিকুল আলম জজ প্রথমে জাতীয় পার্টির রাজনীতির মাধ্যমে পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

ছেংগারচর অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ এই জনপ্রতিনিধি ১৯৮৭ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন সময়ের অন্যতম তরুণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বারও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১৯৯৭-৯৮ সালে প্রায় দেড় বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছেংগারচর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরে ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম পৌর নির্বাচনে বিল্লাল হোসেন সরকার মেয়র নির্বাচিত হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাস ২৭ দিনের মাথায়, ১০ মে তিনি মৃত্যুবরণ করলে মেয়র পদ শূন্য হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে রফিকুল আলম জজ মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ছেংগারচর পৌরসভার দায়িত্ব পালন করেন।

জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আলী হোসেন বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সাবেক মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলম জর্জের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে শোক প্রস্তাবের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় মারা গেলেন ছেংগারচরের সাবেক দুইবারের মেয়র রফিকুল আলম জজ

আপডেট সময় : ০৫:৫২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ছেংগারচর পৌরসভার সাবেক দুইবারের মেয়র, ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক দুইবারের চেয়ারম্যান, শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব রফিকুল আলম জজ (৭২) মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার জেঠাতো ভাই মো. মিরাজ।
তিনি বলেন, ভাই দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। মরদেহ বাংলাদেশে আনতে দু-একদিন সময় লাগতে পারে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ গ্রাম জজনগরেই তাকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তিনি পৌর এলাকার জজ নগর গ্রামের মরহুম আবু নাছের ওয়াহেদ এর সন্তান।

রফিকুল আলম জজ ছিলেন জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও জজ আইডিয়াল কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা। রাজনৈতিক জীবনে রফিকুল আলম জজ প্রথমে জাতীয় পার্টির রাজনীতির মাধ্যমে পথচলা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

ছেংগারচর অঞ্চলের উন্নয়ন, শিক্ষা ও জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ এই জনপ্রতিনিধি ১৯৮৭ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন সময়ের অন্যতম তরুণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বারও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ১৯৯৭-৯৮ সালে প্রায় দেড় বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছেংগারচর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরে ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম পৌর নির্বাচনে বিল্লাল হোসেন সরকার মেয়র নির্বাচিত হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাস ২৭ দিনের মাথায়, ১০ মে তিনি মৃত্যুবরণ করলে মেয়র পদ শূন্য হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে রফিকুল আলম জজ মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ছেংগারচর পৌরসভার দায়িত্ব পালন করেন।

জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আলী হোসেন বলেন, ১৯৮৭ সালে তিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সাবেক মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলম জর্জের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে শোক প্রস্তাবের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।