১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
মতলব উত্তরে ৭ শহীদ পরিবারের পাশে এনসিপি, কবর জিয়ারত ও ঈদ উপহার প্রদান

শহীদ পরিবারের কান্নায় ভারী মতলব উত্তর, পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি এনসিপির

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / ৩০

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত মতলব উত্তর উপজেলার সাত শহীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের বাড়িতে ছুটে গেলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। কবর জিয়ারত, পরিবারের খোঁজখবর গ্রহণ এবং ঈদ উপহার প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন কান্না ও বেদনার গল্পে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শহীদ দীন ইসলাম বেপারী, শহীদ পারভেজ, শহীদ আরিফ বেপারী রাজিব, শহীদ নাইমা সুলতানা, শহীদ মো. সোহেল, শহীদ মো. সুজন খান ও শহীদ মো. আলাউদ্দিনের বাড়িতে যান এনসিপির নেতৃবৃন্দ। তারা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঈদ উপলক্ষে উপহার (নগদ টাকা) তুলে দেন।
রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ও খোঁজখবর পেয়ে অনেক শহীদ পরিবারের সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান হারানোর শোক আজও তাদের তাড়া করে বেড়ায়। নেতৃবৃন্দ তাদের সান্ত্বনা দেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের পাশে এনসিপি, কবর জিয়ারত, সমবেদনা জ্ঞাপন ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহাবুব আলম, চাঁদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ইসরাত জাহান বিন্দু, এনসিপির মনোনীত মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলী প্রধানিয়া, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নবির হোসেন, মতলব উত্তর উপজেলা আহ্বায়ক আরিফা তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিয়াদ হোসেন, এনসিপি নেতা ফয়সাল সরকার’সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহাবুব আলম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন এখনো পূর্ণতা পায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, শহীদদের স্বপ্ন ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি এবং শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব।
মাহাবুব আলম আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার যে অঙ্গীকার জনগণের সামনে করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন দেখতে চায় দেশের মানুষ। শহীদ পরিবারগুলোও জানতে চেয়েছে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের অগ্রগতি কোথায়।
চাঁদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাহবুব আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে চাঁদপুর জেলায় ৩১টি শহীদ পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে মতলব উত্তরে রয়েছে সাতটি শহীদ পরিবার। আমরা প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বিস্মৃত না হয় এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা যাতে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে এনসিপি কাজ করে যাচ্ছে। সন্তান হারানোর বেদনা কখনো পূরণ হওয়ার নয়, তবে তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ইসরাত জাহান বিন্দু বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন। কিন্তু যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের অনেকের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা তাদের কষ্ট ও বেদনা কাছ থেকে অনুভব করেছি। অনেক মা-বাবা আমাদের বলেছেন, ‘তোমরা যখন আমাদের কাছে আসো, তখন মনে হয় আমাদের সন্তানদের স্পর্শ ফিরে পেয়েছি।’ এই কথাগুলো আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
ইসরাত জাহান বিন্দু সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

মতলব উত্তরে ৭ শহীদ পরিবারের পাশে এনসিপি, কবর জিয়ারত ও ঈদ উপহার প্রদান

শহীদ পরিবারের কান্নায় ভারী মতলব উত্তর, পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি এনসিপির

আপডেট সময় : ০৮:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত মতলব উত্তর উপজেলার সাত শহীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের বাড়িতে ছুটে গেলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। কবর জিয়ারত, পরিবারের খোঁজখবর গ্রহণ এবং ঈদ উপহার প্রদানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন কান্না ও বেদনার গল্পে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শহীদ দীন ইসলাম বেপারী, শহীদ পারভেজ, শহীদ আরিফ বেপারী রাজিব, শহীদ নাইমা সুলতানা, শহীদ মো. সোহেল, শহীদ মো. সুজন খান ও শহীদ মো. আলাউদ্দিনের বাড়িতে যান এনসিপির নেতৃবৃন্দ। তারা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঈদ উপলক্ষে উপহার (নগদ টাকা) তুলে দেন।
রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ও খোঁজখবর পেয়ে অনেক শহীদ পরিবারের সদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান হারানোর শোক আজও তাদের তাড়া করে বেড়ায়। নেতৃবৃন্দ তাদের সান্ত্বনা দেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের পাশে এনসিপি, কবর জিয়ারত, সমবেদনা জ্ঞাপন ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহাবুব আলম, চাঁদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ইসরাত জাহান বিন্দু, এনসিপির মনোনীত মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলী প্রধানিয়া, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নবির হোসেন, মতলব উত্তর উপজেলা আহ্বায়ক আরিফা তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিয়াদ হোসেন, এনসিপি নেতা ফয়সাল সরকার’সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহাবুব আলম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন এখনো পূর্ণতা পায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, শহীদদের স্বপ্ন ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি এবং শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব।
মাহাবুব আলম আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার যে অঙ্গীকার জনগণের সামনে করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন দেখতে চায় দেশের মানুষ। শহীদ পরিবারগুলোও জানতে চেয়েছে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের অগ্রগতি কোথায়।
চাঁদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাহবুব আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে চাঁদপুর জেলায় ৩১টি শহীদ পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে মতলব উত্তরে রয়েছে সাতটি শহীদ পরিবার। আমরা প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বিস্মৃত না হয় এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনা যাতে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে এনসিপি কাজ করে যাচ্ছে। সন্তান হারানোর বেদনা কখনো পূরণ হওয়ার নয়, তবে তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ইসরাত জাহান বিন্দু বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন। কিন্তু যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের অনেকের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা তাদের কষ্ট ও বেদনা কাছ থেকে অনুভব করেছি। অনেক মা-বাবা আমাদের বলেছেন, ‘তোমরা যখন আমাদের কাছে আসো, তখন মনে হয় আমাদের সন্তানদের স্পর্শ ফিরে পেয়েছি।’ এই কথাগুলো আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
ইসরাত জাহান বিন্দু সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন, সম্মান এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন