চাঁদপুরের তরুণের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে দেশীয় প্রযুক্তি, ৭ লাখ ব্যবহারকারী Hopenity-তে
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
বিশ্বজুড়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ, মেসেজিং ও অনলাইন বাণিজ্যের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, তখন বাংলাদেশ থেকে তৈরি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে দেশের বাইরেও। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রায়হান সরকারের একক উদ্যোগে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া দেশীয় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম Hopenity এখন সাত লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর মাইলফলক পেরিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। Android, iPhone ও Web তিন মাধ্যমেই চালু থাকা প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী এখন বাংলাদেশ ছাড়িয়ে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশেও রয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের হালিম সরকারের ছেলে রায়হান সরকার ছোট পরিসরে একটি ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ ধাপে ধাপে prototype, product development এবং ব্যবহারকারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ platform চালুর পর্যায়ে পৌঁছায়। বর্তমানে Hopenity শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিজস্ব encrypted messaging platform HopeChat, social commerce platform Hoppi Shopping এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ডিজিটাল সেবা। ফলে একই ecosystem-এর মধ্যে যোগাযোগ, কনটেন্ট তৈরি, ব্যবসা, কেনাকাটা ও সামাজিক কার্যক্রমকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, Hopenity-তে ব্যবহারকারীরা লেখা, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন। প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার পোস্ট তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীরা নিয়মিত একে অপরের সঙ্গে interact করছেন। এর পাশাপাশি HopeChat-এর মাধ্যমে encrypted messaging, audio/video calling ও booking management-এর সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে Hoppi Shopping বর্তমানে বাংলাদেশে চালু রয়েছে, যেখানে বিক্রেতারা পণ্য তালিকাভুক্ত করছেন এবং ব্যবহারকারীরা পণ্য অর্ডার করছেন। অর্ডার process ও delivery কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
Hopenity-এর ব্যবহারকারী বৃদ্ধির পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে multi-CDN infrastructure ব্যবহার করে global traffic serve করা হচ্ছে। শুধু primary CDN গত ৩০ দিনে ৯০ মিলিয়নের বেশি global traffic serve করেছে বলে জানিয়েছে তারা। ব্যবহারকারী ও কনটেন্টের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে server, database, media processing, security এবং network infrastructure ধাপে ধাপে scale করা হচ্ছে। রায়হান সরকার বলেন, বড় technology platform তৈরি করতে শুধু application তৈরি করলেই হয় না; ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকেও সেই অনুপাতে সক্ষম করে তুলতে হয়।
দেশীয় প্রযুক্তি উদ্যোগ হিসেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে Hopenity। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, pre-seed পর্যায়ের অর্থায়নের পর seed-level investment-ও secured হয়েছে। এই অর্থ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, product development, team expansion ও platform growth-এর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রায়হান সরকারের মতে, বাংলাদেশে তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন।
ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে Hopenity। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, account protection-এর জন্য two-factor authentication, device approvalসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। নিজস্ব messaging platform HopeChat-এ encrypted communication সুবিধাও রাখা হয়েছে। ব্যবহারকারী ও সেবার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে security ও privacy infrastructure আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে Hopenity-এর কার্যক্রম কেবল সামাজিক যোগাযোগ বা বিনোদনে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না উদ্যোক্তা রায়হান সরকার। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত খাবার অন্য মানুষের সঙ্গে ভাগ করে দেওয়া, অতিরিক্ত পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রয়োজনীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মতো সামাজিক কার্যক্রমেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রায়হান সরকারের ভাবনায় Hopenity শুধু একটি business platform নয়, বরং বাংলাদেশের নিজস্ব digital capability তৈরির একটি উদ্যোগ। তাঁর মতে, দেশের মানুষ বর্তমানে social media, video platform, advertising, online services ও digital commerce-এর জন্য বড় আন্তর্জাতিক platform ব্যবহার করছে। দেশীয় technology platform শক্তিশালী হলে digital advertising, commerce ও online services-এর একটি অংশ দেশের অর্থনীতির ভেতরে রাখা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারকারী ও ব্যবসা তৈরি করতে পারলে বিদেশি বাজার থেকেও দেশে revenue আনার সুযোগ তৈরি হবে।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে Hopenity আগামী দিনের জন্য user growth, creator economy, user experience, in-app advertising, brand ও seller ecosystem, sustainable revenue এবং international expansion-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ব্যবহারকারী সংখ্যা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি advertising ecosystem সম্প্রসারণ, creators ও brands যুক্ত করা, sellers বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে platform-এর ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।
২০১৯ সালে মতলবের দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামের এক তরুণের হাতে শুরু হওয়া Hopenity-এর পথচলা এখন সাত লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী এবং একাধিক ডিজিটাল সেবা নিয়ে নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মতলবের একটি গ্রামের ধারণা থেকে শুরু হয়ে Android, iPhone ও Web প্ল্যাটফর্মে বিস্তৃত হওয়া এই উদ্যোগ এখন বাংলাদেশের বাইরের ব্যবহারকারীদের কাছেও পৌঁছানোর দাবি করছে।
রায়হান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন, বাংলাদেশ শুধু বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারী হয়ে থাকবে না; দেশের তরুণরাও বিশ্বের মানুষের জন্য প্রযুক্তি তৈরি করবে। সেই ভাবনা থেকেই Hopenity-এর সামনে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ, social commerce, creator economy, digital advertising ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আরও বড় করার লক্ষ্য।
Hopenity-এর ভাষায় ‘The People’s Platform’। মতলব থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রার পরবর্তী লক্ষ্য এখন ‘Built in Bangladesh, Built for the World’।



















