হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ভারতের দ্বিমুখী নীতির পরিচয়: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৭

প্রতিদিনের নিউজ:
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, যেদিন জনগণের গণঅভ্যুত্থানে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পতন ঘটে।
বুধবার,৫ আগস্ট রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ক্যাফে সাও পাওলোর সামনে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
রিজভী অভিযোগ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে ক্ষমতায় ছিল। তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিশুরাও সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
এই বিএনপি নেতা বলেন, জনগণের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ একসময় বিস্ফোরিত হয়, যা সরকার উপলব্ধি করতে পারেনি।
শেখ হাসিনাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে হিটলার ও মুসোলিনির মতো শাসকদের সঙ্গে তার তুলনা করা হলেও শেখ হাসিনার শাসনামলের বৈশিষ্ট্য ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, অর্থপাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা। এ কারণে ইতিহাসে শেখ হাসিনা ‘নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন।
ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল, এটি একটি বেসরকারি আয়োজন হওয়ায় তাদের কিছু করার নেই। এ অবস্থান ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির পরিচায়ক।
তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি বিষয়ে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে আসতে চাইলে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও ভারত সরকার অনুমতি দেয়নি। অথচ বর্তমানে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রিজভী আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনা একসময় বলেছিলেন তিনি ভারতকে এমন কিছু দিয়েছেন, যা দেশটি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। ভারতের বর্তমান অবস্থান সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এনেছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো এবং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্ব।














