মামলাবাজ বেদে পরিবারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ; মিথ্যা মামলা ও হয়রানিতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / ২৯

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বেদে পরিবারের সদস্য পেয়ারা বেগম ও সাথী বেগমের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও দখলচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে মতলব উত্তর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী জহিরুল হক প্রধান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কালাম হোসেন, বিশা বেপারী, মনজুর আলম, জহির প্রধান, শহীদুল্লাহ, হারুন, আবু কালাম, বাবুল’সহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এ সময় শিকিরচর গ্রামের বাসিন্দাদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, বেদে পেয়ারার পরিবারের অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার যন্ত্রণায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
লিখিত বক্তব্যে জহিরুল হক প্রধান জানান, তার বাবা ১৯৮৫ সালে জনাব মকবুল হোসেনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে একটি জায়গা লিজ নেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নিজ নামে লিজ গ্রহণ করে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই স্থানে দোকান পরিচালনা করেন তিনি। পরে পৌরসভার উদ্যোগে ম্যুরাল নির্মাণের কথা বলে দোকানটি ভেঙে ফেলা হলেও আর কোনো নির্মাণকাজ হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে পেয়ারা বেগম জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেন। সে সময় তিনি বিদেশে থাকায় সুযোগ নিয়ে তার ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে মাসে ১৮ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করেন পেয়ারা বেগম।
জহিরুল আরও বলেন, চলতি বছরের ৫ রমজানে তিনি দোকানটি মেরামতের জন্য ভাড়াটিয়াকে নির্দেশ দিলে পেয়ারা বেগম স্থানীয় বণিক সমিতির কাছে অভিযোগ করেন। পরে বণিক সমিতির সভাপতি উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে রমজানের পর সালিশের সিদ্ধান্ত দিলেও পেয়ারা বেগম সেখানে উপস্থিত হননি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি একাধিক মামলার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলা নং-২৬৯/২০২৬ এর মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় তাকে, রেজাউল করিম প্রধান, আনোয়ার হোসেন ও আমিরুল ইসলামকে আসামি করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এছাড়া ৪ মে দায়েরকৃত আরেকটি মামলায় ১৪৩/৩৮৫/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/৫০৬ ধারায় অভিযোগ এনে ৫ মে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ওই মামলায় আসামিপক্ষ জামিনে রয়েছেন।
জহিরুল হক প্রধানের অভিযোগ, ১২ মে সন্ধ্যায় পেয়ারা বেগম নিজ কাপড়ে নিজেই আগুন লাগিয়ে থানায় গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ নাটক ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কালাম হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগীও। তিনি বলেন, কিস্তিতে কেনা একটি অটোরিকশা নিয়ে বিরোধের জেরে পেয়ারা বেগম তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা থেকে রেহাই পেতে তাকে ঘুষ ও জরিমানাসহ বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে নিজের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের কাছে আইনি প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পেয়ারা বেগম ও সাথী বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


























