প্রবল ঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মতলব উত্তরে ২০ ঘন্টা যাবত ৪০% মানুষ অন্ধকারে
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৯

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং অন্তত ৪০টির বেশি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে তীব্র তাপদাহর পর হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। ঝড়ের তীব্রতায় বহু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং সঞ্চালন লাইন ছিঁড়ে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন মতলব উত্তর জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বাণিজ্যিক এবং প্রায় ৪০০ শিল্প গ্রাহক রয়েছে। এছাড়া একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্তত ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপজেলা প্রশাসন, থানা, ২টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।
বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা বেশি কষ্টে রয়েছেন। ব্যবসায়ীরা ফ্রিজ, কোল্ড স্টোরেজ ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালাতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের জসিমউদদীন, ইমরান হোসেন, নাছির উদ্দীন বলেন, রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ নেই। গরমে ঘুমানো যাচ্ছে না। খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
এক দোকানদার রফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম। বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যবসা চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
এসএসসি পরিক্ষার্থী লিমন জানায়, আমাদের এসএসসি পরীক্ষা চলমান। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। খুব ভোগান্তিতে আছি।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতলব উত্তর জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মেরামত কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। তবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগতে পারে।
মতলব উত্তর জোনাল অফিসের ডিজিএম এম.ডি. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ঝড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের টিম মাঠে কাজ করছে। আমাদের এখানে জনবল ও সংকট রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার চেষ্টা চলছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে এবং আশা করছি আজকে রাতের মধ্যে অনেক জায়গায় সংযোগ দেওয়া হবে।


























