০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

২৫ বছরেও কাগজে-কলমেই আটকে মতলব উত্তরের ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, উন্নয়ন নেই বাস্তবে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১০৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতিদিনের নিউজ:

২০০০ সালে সরকারি উদ্যোগে মেঘনা নদীর পাড়ে সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা। কিন্তু প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা এখনও আধুনিক পর্যটন-গুণসম্পন্ন মান থেকে বহু দূরে।

ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রটি মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষা অবস্থান করে; ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলাকে কাছাকাছি এনে দেয় এবং লঞ্চ বা ট্রলার যোগে পর্যটকরা এখানে সহজেই পৌঁছাতে পারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, নদী-তীরের দিগন্ত, খোলা বাতাসে প্রতিদিনই অনেক পর্যটক এখানে আসেন বনভোজন, লঞ্চ ভ্রমণ ও পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে।

কিন্তু আধুনিক হিসেবে কোনও কাঠামো, পর্যাপ্ত বসার জায়গা, নিরাপদ বিশ্রামাগার, পর্যাপ্ত শৌচাগার, পানি-খাবারের সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পরিচ্ছন্নতা এখানে নেই। ফলে পর্যটকেরা আগমন করেও হতাশা নিয়ে ফিরে যায়।

উন্নয়ন না হলে সম্ভাবনা অজানাই থেকে যাবে স্থানীয় ও পর্যটন বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে সফল করতে হলে শুধুমাত্র “ঘোষণা” যথেষ্ট নয় পরিকল্পিত আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা এখানকার পর্যটন কেন্দ্রকে দেশের অন্যতম দর্শনীয় গন্তব্যে পরিণত করতে পারে।
স্থানীয়রা আশাবাদী যে কেন্দ্রটি যদি দ্রুত আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হয়, তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও ব্যবসায় উন্নয়ন, জমির মূল্য বৃদ্ধি সহ পুরো এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক অবকাঠামো ছাড়াই এখানে কেউ চিরস্থায়ী উন্নতি দেখতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সকলের যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত বিনিয়োগ ছাড়া এ পর্যটন কেন্দ্র এখনও শুধু নামেই পর্যটন কেন্দ্র অনুসন্ধানকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সীমাবদ্ধ রয়েছে আশা করা হচ্ছে ব্যয়ের অনুমোদন পেলে খুব শিগগিরি উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাফিন দম্পতি জানান, জায়গাটা দারুণ, কিন্তু সন্ধ্যায় কিছু সন্দেহজনক মানুষের আনাগোনায় বেশ ভয় লাগছিল। যদি সরকার নজর দিত, তাহলে এটা খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠত।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন আলম বলেন, নৌকাভ্রমণ আর নদী দেখা ছাড়া কিছু নেই। ভালো রেস্ট হাউজ, খাবার দোকান আর নিরাপত্তা থাকলে অনেক বেশি মানুষ আসত।

একই অভিমত কলেজ শিক্ষার্থী বেনজির হোসেনের, বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসি। বসার জায়গা বা পার্ক থাকলে অনেক বেশি মজা হতো।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘোষণার পর ঘোষণায় ২৫ বছর পার হয়ে গেলেও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রের কোনো বাস্তব উন্নয়ন চোখে পড়ছে না। এটি এখন পর্যটন কেন্দ্রের নাম ব্যবহার করে অবহেলার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। নেই ন্যূনতম আধুনিক অবকাঠামো, নেই নিরাপত্তা, নেই পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণেই সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসের মুখে। অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ ও দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, পর্যটন কেন্দ্রটির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিশুদের খেলার মাঠ, পার্কিং, রেস্ট শেডসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ষাটনলের উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকারে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর দিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করার আশা করছি। সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিকল্পনা চলছে। কিছুদিন আগে কিছু সংস্কারের কাজ হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রটিতে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

২৫ বছরেও কাগজে-কলমেই আটকে মতলব উত্তরের ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, উন্নয়ন নেই বাস্তবে

আপডেট সময় : ০৭:২৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতিদিনের নিউজ:

২০০০ সালে সরকারি উদ্যোগে মেঘনা নদীর পাড়ে সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা। কিন্তু প্রায় ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানকার অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা এখনও আধুনিক পর্যটন-গুণসম্পন্ন মান থেকে বহু দূরে।

ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রটি মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষা অবস্থান করে; ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলাকে কাছাকাছি এনে দেয় এবং লঞ্চ বা ট্রলার যোগে পর্যটকরা এখানে সহজেই পৌঁছাতে পারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য, নদী-তীরের দিগন্ত, খোলা বাতাসে প্রতিদিনই অনেক পর্যটক এখানে আসেন বনভোজন, লঞ্চ ভ্রমণ ও পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে।

কিন্তু আধুনিক হিসেবে কোনও কাঠামো, পর্যাপ্ত বসার জায়গা, নিরাপদ বিশ্রামাগার, পর্যাপ্ত শৌচাগার, পানি-খাবারের সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পরিচ্ছন্নতা এখানে নেই। ফলে পর্যটকেরা আগমন করেও হতাশা নিয়ে ফিরে যায়।

উন্নয়ন না হলে সম্ভাবনা অজানাই থেকে যাবে স্থানীয় ও পর্যটন বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রকে সফল করতে হলে শুধুমাত্র “ঘোষণা” যথেষ্ট নয় পরিকল্পিত আধুনিক অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা এখানকার পর্যটন কেন্দ্রকে দেশের অন্যতম দর্শনীয় গন্তব্যে পরিণত করতে পারে।
স্থানীয়রা আশাবাদী যে কেন্দ্রটি যদি দ্রুত আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হয়, তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও ব্যবসায় উন্নয়ন, জমির মূল্য বৃদ্ধি সহ পুরো এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক অবকাঠামো ছাড়াই এখানে কেউ চিরস্থায়ী উন্নতি দেখতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সকলের যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত বিনিয়োগ ছাড়া এ পর্যটন কেন্দ্র এখনও শুধু নামেই পর্যটন কেন্দ্র অনুসন্ধানকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সীমাবদ্ধ রয়েছে আশা করা হচ্ছে ব্যয়ের অনুমোদন পেলে খুব শিগগিরি উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাফিন দম্পতি জানান, জায়গাটা দারুণ, কিন্তু সন্ধ্যায় কিছু সন্দেহজনক মানুষের আনাগোনায় বেশ ভয় লাগছিল। যদি সরকার নজর দিত, তাহলে এটা খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠত।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন আলম বলেন, নৌকাভ্রমণ আর নদী দেখা ছাড়া কিছু নেই। ভালো রেস্ট হাউজ, খাবার দোকান আর নিরাপত্তা থাকলে অনেক বেশি মানুষ আসত।

একই অভিমত কলেজ শিক্ষার্থী বেনজির হোসেনের, বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসি। বসার জায়গা বা পার্ক থাকলে অনেক বেশি মজা হতো।

মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘোষণার পর ঘোষণায় ২৫ বছর পার হয়ে গেলেও ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রের কোনো বাস্তব উন্নয়ন চোখে পড়ছে না। এটি এখন পর্যটন কেন্দ্রের নাম ব্যবহার করে অবহেলার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। নেই ন্যূনতম আধুনিক অবকাঠামো, নেই নিরাপত্তা, নেই পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণেই সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসের মুখে। অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ ও দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, পর্যটন কেন্দ্রটির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিশুদের খেলার মাঠ, পার্কিং, রেস্ট শেডসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ষাটনলের উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকারে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর দিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করার আশা করছি। সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিকল্পনা চলছে। কিছুদিন আগে কিছু সংস্কারের কাজ হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রটিতে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন