১০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র তাপদাহের পর মতলবে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৯

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। তবে সেই স্বস্তির সঙ্গে এসেছে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি, যা অনেক কৃষকের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি ও শিলা বর্ষণ শুরু হলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। দীর্ঘদিনের গরমে অতিষ্ঠ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেকেই ধান কেটে জমিতে রেখে এসেছেন। কেউ কেউ ভুট্টা তুলে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দিয়েছেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে এসব ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সবজি চাষে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, গরমে মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। কিন্তু ধান কেটে জমিতে রেখে আসছি, এখন বৃষ্টিতে ক্ষতির ভয় হচ্ছে।

ছেংগারচর এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ভুট্টা তুলে বাড়ির উঠোনে রেখেছিলাম শুকানোর জন্য। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে অনেকটা ভিজে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কয়েকটি স্থানে ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগেও বিঘ্ন দেখা দেয়।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর কারণে কিছু ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে কাটা ধান, উঠোনে রাখা ভুট্টা ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি দ্রুত ফসল নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

তীব্র তাপদাহের পর মতলবে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি

আপডেট সময় : ০৮:০২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে। তবে সেই স্বস্তির সঙ্গে এসেছে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি, যা অনেক কৃষকের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি ও শিলা বর্ষণ শুরু হলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। দীর্ঘদিনের গরমে অতিষ্ঠ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনেকেই ধান কেটে জমিতে রেখে এসেছেন। কেউ কেউ ভুট্টা তুলে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দিয়েছেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে এসব ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সবজি চাষে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলার সুজাতপুর এলাকার কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, গরমে মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। কিন্তু ধান কেটে জমিতে রেখে আসছি, এখন বৃষ্টিতে ক্ষতির ভয় হচ্ছে।

ছেংগারচর এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ভুট্টা তুলে বাড়ির উঠোনে রেখেছিলাম শুকানোর জন্য। হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে অনেকটা ভিজে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কয়েকটি স্থানে ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগেও বিঘ্ন দেখা দেয়।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, বৃষ্টি কৃষির জন্য উপকারী হলেও শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর কারণে কিছু ফসলের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে কাটা ধান, উঠোনে রাখা ভুট্টা ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি দ্রুত ফসল নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন