০২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

পরিকল্পনার অভাবে চাঁদপুরের গুরুত্বপূর্ণ তিন রাস্তার মোড় অচলপ্রায়

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১১০

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম:

চাঁদপুর জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বাবুরহাট এলাকায় প্রতিদিনই লেগে থাকছে তীব্র যানজট। অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য, অপরিকল্পিত পার্কিং, ফুটপাত দখল, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এবং সরু সড়কের কারণে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাবুরহাট এলাকার তিন রাস্তার মোড়টি চাঁদপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এখান থেকেই চাঁদপুর-ঢাকা, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। বিশেষ করে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার একটি বিকল্প পথ হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ধনাগোদা নদী পার হয়ে দাউদকান্দি পর্যন্ত সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করেছে।

এই মোড় দিয়েই প্রতিদিন নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, মহামায়া, বাকিলা ও মতলব শ্রীরায়েরচর’সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেন। ফলে এলাকাটি বর্তমানে একটি ব্যস্ত ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবুরহাট এলাকার যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত যানবাহন চলাচল। ইজিবাইক, অটোরিকশা ও রিকশাগুলো যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো করে এবং একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলাচল করে। এছাড়া ফুটপাত দখল করে হকার ও অবৈধ স্থাপনা বসানোয় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নামছেন, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শহরে পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস না থাকায় বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারগুলো রাস্তার পাশেই পার্ক করা হচ্ছে। ফলে সরু সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণের অভাব।

যাত্রী চাপের কারণে বাবুরহাট এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড ও মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার স্ট্যান্ড। এই অস্থায়ী স্ট্যান্ড থেকেই বাবুরহাট–পেন্নাই সড়কের মাথায় প্রায় সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার গলির মধ্যেই এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখাই মূলত ‘জ্যাম’-এর প্রধান কারণ।

যাত্রীদের সুবিধাকে কেন্দ্র করে এখানে ২৪ ঘণ্টা দোকানপাট খোলা থাকে, যা একদিকে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করলেও অন্যদিকে পরিকল্পনার অভাবে যানজটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রোড ডিভাইডার স্থাপন উল্লেখযোগ্য। ট্রাফিক বিভাগও যানজট কমাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তবে বাস্তবে এসব উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এরশাদ সরকারের সময় বাবুরহাট এলাকায় একটি মাইলস্টোনের মাধ্যমে মতলব সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে, যা এলাকার ঐতিহ্য ও গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, বাবুরহাটের এই তিন রাস্তার মোড়ে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হোক। স্থানীয়রা বলেন, এই মোড়টি শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, বাণিজ্যিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পরিকল্পনার অভাবে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তাঁদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এলাকাটি গড়ে তোলা গেলে এটি চাঁদপুর জেলা শহরের একটি ‘গেটওয়ে’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মিত হলে পর্যটন, অর্থনীতি ও শহরের সৌন্দর্য সব দিক থেকেই লাভবান হবে চাঁদপুরবাসী।

এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাবুরহাট এলাকার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

পরিকল্পনার অভাবে চাঁদপুরের গুরুত্বপূর্ণ তিন রাস্তার মোড় অচলপ্রায়

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম:

চাঁদপুর জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বাবুরহাট এলাকায় প্রতিদিনই লেগে থাকছে তীব্র যানজট। অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য, অপরিকল্পিত পার্কিং, ফুটপাত দখল, অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এবং সরু সড়কের কারণে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাবুরহাট এলাকার তিন রাস্তার মোড়টি চাঁদপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এখান থেকেই চাঁদপুর-ঢাকা, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। বিশেষ করে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার একটি বিকল্প পথ হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ধনাগোদা নদী পার হয়ে দাউদকান্দি পর্যন্ত সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করেছে।

এই মোড় দিয়েই প্রতিদিন নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, মহামায়া, বাকিলা ও মতলব শ্রীরায়েরচর’সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেন। ফলে এলাকাটি বর্তমানে একটি ব্যস্ত ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবুরহাট এলাকার যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত যানবাহন চলাচল। ইজিবাইক, অটোরিকশা ও রিকশাগুলো যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো করে এবং একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে চলাচল করে। এছাড়া ফুটপাত দখল করে হকার ও অবৈধ স্থাপনা বসানোয় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নামছেন, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শহরে পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস না থাকায় বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারগুলো রাস্তার পাশেই পার্ক করা হচ্ছে। ফলে সরু সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণের অভাব।

যাত্রী চাপের কারণে বাবুরহাট এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড ও মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার স্ট্যান্ড। এই অস্থায়ী স্ট্যান্ড থেকেই বাবুরহাট–পেন্নাই সড়কের মাথায় প্রায় সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার গলির মধ্যেই এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখাই মূলত ‘জ্যাম’-এর প্রধান কারণ।

যাত্রীদের সুবিধাকে কেন্দ্র করে এখানে ২৪ ঘণ্টা দোকানপাট খোলা থাকে, যা একদিকে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করলেও অন্যদিকে পরিকল্পনার অভাবে যানজটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রোড ডিভাইডার স্থাপন উল্লেখযোগ্য। ট্রাফিক বিভাগও যানজট কমাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তবে বাস্তবে এসব উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এরশাদ সরকারের সময় বাবুরহাট এলাকায় একটি মাইলস্টোনের মাধ্যমে মতলব সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে, যা এলাকার ঐতিহ্য ও গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, বাবুরহাটের এই তিন রাস্তার মোড়ে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হোক। স্থানীয়রা বলেন, এই মোড়টি শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, বাণিজ্যিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পরিকল্পনার অভাবে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তাঁদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এলাকাটি গড়ে তোলা গেলে এটি চাঁদপুর জেলা শহরের একটি ‘গেটওয়ে’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। একই সঙ্গে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মিত হলে পর্যটন, অর্থনীতি ও শহরের সৌন্দর্য সব দিক থেকেই লাভবান হবে চাঁদপুরবাসী।

এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাবুরহাট এলাকার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন