০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন আটক ২

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৮৭

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতিদিনের নিউজ:

মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের তরুণ তাকবির আহমেদ (২২)।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ। ঘটনার পর নিহতের পিতার দায়ের করা হত্যা মামলার পরদিনই নৃশংস এই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবন থেকে এই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার অবস্থায় থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তরুণের মরদেহ সনাক্ত করে নিশ্চিত হন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে গত ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মো. হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মো. রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানান, মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ ও দাবি করেন আসামিরা।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন আটক ২

আপডেট সময় : ০৮:২৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতিদিনের নিউজ:

মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের তরুণ তাকবির আহমেদ (২২)।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ। ঘটনার পর নিহতের পিতার দায়ের করা হত্যা মামলার পরদিনই নৃশংস এই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবন থেকে এই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার অবস্থায় থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে তরুণের মরদেহ সনাক্ত করে নিশ্চিত হন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে গত ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মো. হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মো. রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা জানান, মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ ও দাবি করেন আসামিরা।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন