১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিতর্কে মান্নান, মনোনয়ন বাতিলের দাবি স্থানীয়দের

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতিদিনের নিউজ:

শিল্পনগরী সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পরই তাকে নিয়ে দলের ভেতরে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মান্নান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সোনারগাঁ এলাকায় মান্নানপন্থী একটি চক্র চাঁদাবাজি, লুটপাট, মারধর ও দখলবাজিতে জড়িয়ে পড়ে এমন অভিযোগও উঠেছে। দলের বহু নেতাকর্মী এতে ক্ষুব্ধ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সারা দেশে বিএনপি লোক চাঁদাবাজি করছে। ঢাকাতে মির্জা আব্বাসের লোক চাঁদাবাজির সাথে জড়িত আজহারুল ইসলাম মান্নানের এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিষয়টি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

এক সময় স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। পরবর্তীতে একটি শিল্প গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তিনি কোম্পানির হয়ে সোনারগাঁর প্রতাপের চর, ঝাউচরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমি দখলের কাজে জড়িয়ে পড়েন। দ্রুতই জমি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী তৈরি করেন। ওই বাহিনীর মাধ্যমে দখল বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। নিজের প্রভাব বিস্তারে নাম লেখান রাজনীতিতে; বিএনপির সাধারণ সদস্য থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, পরে উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কিছু নেতার সঙ্গেও রাজনৈতিক সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। ফলে বিএনপির নেতা হয়েও গত দেড় যুগে তার ব্যবসা বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

তবে চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মান্নান অগ্নিমূর্তি ধারণ করে অতি মাত্রায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ তৃণমূল বিএনপি নেতাদের। তাদের অভিযোগ, এলাকায় এক ধরনের ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন তিনি। এ কারণেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন এবং মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন শিল্পকারখানা, নৌবন্দর ও মেঘনা নদীর নুনেরটেক থেকে চর কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ৪২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয় সজীবের নামে এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই প্রচলিত।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং দলকে রক্ষা করতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার আহবান জানান।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিতর্কে মান্নান, মনোনয়ন বাতিলের দাবি স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ০৯:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রতিদিনের নিউজ:

শিল্পনগরী সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পরই তাকে নিয়ে দলের ভেতরে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মান্নান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সোনারগাঁ এলাকায় মান্নানপন্থী একটি চক্র চাঁদাবাজি, লুটপাট, মারধর ও দখলবাজিতে জড়িয়ে পড়ে এমন অভিযোগও উঠেছে। দলের বহু নেতাকর্মী এতে ক্ষুব্ধ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সারা দেশে বিএনপি লোক চাঁদাবাজি করছে। ঢাকাতে মির্জা আব্বাসের লোক চাঁদাবাজির সাথে জড়িত আজহারুল ইসলাম মান্নানের এমন একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিষয়টি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

এক সময় স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। পরবর্তীতে একটি শিল্প গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তিনি কোম্পানির হয়ে সোনারগাঁর প্রতাপের চর, ঝাউচরসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমি দখলের কাজে জড়িয়ে পড়েন। দ্রুতই জমি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী তৈরি করেন। ওই বাহিনীর মাধ্যমে দখল বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। নিজের প্রভাব বিস্তারে নাম লেখান রাজনীতিতে; বিএনপির সাধারণ সদস্য থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, পরে উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কিছু নেতার সঙ্গেও রাজনৈতিক সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। ফলে বিএনপির নেতা হয়েও গত দেড় যুগে তার ব্যবসা বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

তবে চলতি বছরের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মান্নান অগ্নিমূর্তি ধারণ করে অতি মাত্রায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ তৃণমূল বিএনপি নেতাদের। তাদের অভিযোগ, এলাকায় এক ধরনের ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন তিনি। এ কারণেই যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন এবং মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন শিল্পকারখানা, নৌবন্দর ও মেঘনা নদীর নুনেরটেক থেকে চর কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ৪২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয় সজীবের নামে এমন অভিযোগ বহুদিন ধরেই প্রচলিত।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং দলকে রক্ষা করতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার আহবান জানান।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন