০২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ফ্যাক্টর হতে পারে আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১২৮

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাজহারুল রাসেল :

সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। অনেকে মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত দলটির উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের উপর আস্থা রেখেছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীও প্রচার-প্রচারণায় চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনি এলাকা।

তবে, আসনটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বড় ভোটব্যাংক প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। তারা বলছেন, আসনটিতে আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’ আছে। এই ভোট যেদিকে ঘুরবে সেই প্রার্থী জয়ী হবেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনী এলাকা ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, তোরণ ও লিফলেটে। তবে অধিকাংশ পোস্টারই বিএনপি সমর্থিতদের। আজহারুল ইসলাম মান্নান ছাড়াও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, এস এম ওয়ালিউর রহমান আপেল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এর পোস্টার চোখে পড়েছে। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অনেকের আশা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হবে।

বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীর পোস্টারও দেখা গেছে এলাকাজুড়ে। তবে সেভাবে চোখে পড়েনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীর বাহ্যিক প্রচারণা।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে লড়বেন প্রিন্সিপাল ডক্টর ইকবাল হোসেইন ভূঁইয়া। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তুহিন মাহমুদ। আরও বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূলত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই তিন দলের মাঝে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,এস এম ওয়ালিউর রহমান আপেল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এর নাম সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকায় না আসায় এবং সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান কে সম্ভাব্য মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অন্য সকল প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে।

বিএনপির বড় অংশের নেতাকর্মীরা আজহারুল ইসলাম মান্নান কে ঘিরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন।

বিএনপির কর্মসূচি সফল করতে হামলারও শিকার হয়েছেন। স্থানীয় ভাবে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে তিনি দলকে সংগঠিত রেখেছেন, হামলা-মামলার ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থেকেছেন এবং সোনারগাঁও বিএনপির ঘাঁটি ধরে রেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব কারণে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ফ্যাক্টর হতে পারে আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাজহারুল রাসেল :

সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। অনেকে মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত দলটির উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের উপর আস্থা রেখেছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীও প্রচার-প্রচারণায় চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনি এলাকা।

তবে, আসনটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বড় ভোটব্যাংক প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। তারা বলছেন, আসনটিতে আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’ আছে। এই ভোট যেদিকে ঘুরবে সেই প্রার্থী জয়ী হবেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনী এলাকা ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার, তোরণ ও লিফলেটে। তবে অধিকাংশ পোস্টারই বিএনপি সমর্থিতদের। আজহারুল ইসলাম মান্নান ছাড়াও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, এস এম ওয়ালিউর রহমান আপেল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এর পোস্টার চোখে পড়েছে। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অনেকের আশা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হবে।

বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীর পোস্টারও দেখা গেছে এলাকাজুড়ে। তবে সেভাবে চোখে পড়েনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীর বাহ্যিক প্রচারণা।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে লড়বেন প্রিন্সিপাল ডক্টর ইকবাল হোসেইন ভূঁইয়া। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী তুহিন মাহমুদ। আরও বিভিন্ন দলের প্রার্থী থাকলেও মূলত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এই তিন দলের মাঝে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,এস এম ওয়ালিউর রহমান আপেল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এর নাম সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকায় না আসায় এবং সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান কে সম্ভাব্য মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অন্য সকল প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে।

বিএনপির বড় অংশের নেতাকর্মীরা আজহারুল ইসলাম মান্নান কে ঘিরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন।

বিএনপির কর্মসূচি সফল করতে হামলারও শিকার হয়েছেন। স্থানীয় ভাবে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে তিনি দলকে সংগঠিত রেখেছেন, হামলা-মামলার ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে থেকেছেন এবং সোনারগাঁও বিএনপির ঘাঁটি ধরে রেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব কারণে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন