০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মতলবে জুন মাসজুড়ে মৎস্য দপ্তরের অভিযান: দুই লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • / ১৪৪

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জুন মাসব্যাপী মৎস্য দপ্তরের পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও মাছ ধরার ফাঁদ। উপজেলায় নদী ও খাল-বিলজুড়ে পরিচালিত এই অভিযান ছিল অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে একটি জোরালো পদক্ষেপ।

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে চায়না দুয়ারী চাঁই, পোনার চাঁই, বেহুন্দী, গছি/খুঁটি ও কারেন্ট জালের মতো পরিবেশবিধ্বংসী যন্ত্রাংশ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে ৯০০টি চায়না দুয়ারী চাঁই, পাঙ্গাসের পোনার চাঁই ১টি, বেহুন্দী জাল ১টি, গছি/খুঁটি জাল: ২টি কারেন্ট জাল প্রায় ২ লক্ষ মিটার উদ্ধারের পরে ধ্বংস করা হয়।

এই বিশেষ ধরনের চাঁই খুব সূক্ষ্ম ফাঁসযুক্ত হওয়ায় যেকোনো আকারের মাছ ও জলজ প্রাণী এতে ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে চিংড়ি, বেলে, সেলেং, পোয়া মাছ ছাড়াও শিং, কুকরজিভ, টেংরা, বইছা মাছের পোনাগুলো পর্যন্ত নিধন হয়। এমনকি শামুক ও অন্যান্য ছোট জলজ প্রাণীরও বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না। ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী রক্ষা শুধু প্রশাসনের কাজ নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। মাছ না থাকলে মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পোনা ও মা মাছ বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা মৎস্য অফিস আরো জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে নদীভিত্তিক আরও অভিযান চালানো হবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন মা মাছ ডিম ছাড়ে।

অভিযানে ধৃত জালগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনায় কোস্ট গার্ড, মতলব উত্তর থানা পুলিশ, মোহনপুর ও বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

মৎস্য সংরক্ষণে সচেতনতা, প্রশাসনিক কঠোরতা ও জনসম্পৃক্ততা একসাথে কাজ করলেই নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষা সম্ভব। না হলে একদিন হয়ত জাল নিয়ে নদীতে গেলেও আর কোনো মাছ আর মিলবে না।

দশানী এলাকায় এক জেলে আল আমিন বলেন, এই চায়না চাঁই দিয়া তো পানিতে যা আছে সব ধরা পড়ে। ছোট মাছ তো নাই বললেই চলে। এখন যে মাছ ধরি, তা বাজারে তুলতে পারি না, কারও তো বাঁচার উপায় নাই।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করতে। কিন্তু এ ধরনের জাল যারা বিক্রি করে এবং ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দরকার। প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ আরও কঠোর হোক।

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, চায়না দুয়ারী চাঁই ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের ফলে নদী ও খাল-বিলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদনে ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে। অভিযান চলাকালে নুর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে চায়না দুয়ারী চাঁই ফেলার সময় চিহ্নিত করা হয়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

মতলবে জুন মাসজুড়ে মৎস্য দপ্তরের অভিযান: দুই লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জুন মাসব্যাপী মৎস্য দপ্তরের পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও মাছ ধরার ফাঁদ। উপজেলায় নদী ও খাল-বিলজুড়ে পরিচালিত এই অভিযান ছিল অবৈধ মাছ ধরার বিরুদ্ধে একটি জোরালো পদক্ষেপ।

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে চায়না দুয়ারী চাঁই, পোনার চাঁই, বেহুন্দী, গছি/খুঁটি ও কারেন্ট জালের মতো পরিবেশবিধ্বংসী যন্ত্রাংশ জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে ৯০০টি চায়না দুয়ারী চাঁই, পাঙ্গাসের পোনার চাঁই ১টি, বেহুন্দী জাল ১টি, গছি/খুঁটি জাল: ২টি কারেন্ট জাল প্রায় ২ লক্ষ মিটার উদ্ধারের পরে ধ্বংস করা হয়।

এই বিশেষ ধরনের চাঁই খুব সূক্ষ্ম ফাঁসযুক্ত হওয়ায় যেকোনো আকারের মাছ ও জলজ প্রাণী এতে ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে চিংড়ি, বেলে, সেলেং, পোয়া মাছ ছাড়াও শিং, কুকরজিভ, টেংরা, বইছা মাছের পোনাগুলো পর্যন্ত নিধন হয়। এমনকি শামুক ও অন্যান্য ছোট জলজ প্রাণীরও বাঁচার সম্ভাবনা থাকে না। ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী রক্ষা শুধু প্রশাসনের কাজ নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। মাছ না থাকলে মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পোনা ও মা মাছ বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা মৎস্য অফিস আরো জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে নদীভিত্তিক আরও অভিযান চালানো হবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন মা মাছ ডিম ছাড়ে।

অভিযানে ধৃত জালগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনায় কোস্ট গার্ড, মতলব উত্তর থানা পুলিশ, মোহনপুর ও বেলতলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

মৎস্য সংরক্ষণে সচেতনতা, প্রশাসনিক কঠোরতা ও জনসম্পৃক্ততা একসাথে কাজ করলেই নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষা সম্ভব। না হলে একদিন হয়ত জাল নিয়ে নদীতে গেলেও আর কোনো মাছ আর মিলবে না।

দশানী এলাকায় এক জেলে আল আমিন বলেন, এই চায়না চাঁই দিয়া তো পানিতে যা আছে সব ধরা পড়ে। ছোট মাছ তো নাই বললেই চলে। এখন যে মাছ ধরি, তা বাজারে তুলতে পারি না, কারও তো বাঁচার উপায় নাই।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করতে। কিন্তু এ ধরনের জাল যারা বিক্রি করে এবং ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দরকার। প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ আরও কঠোর হোক।

মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, চায়না দুয়ারী চাঁই ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের ফলে নদী ও খাল-বিলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদনে ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে। অভিযান চলাকালে নুর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে চায়না দুয়ারী চাঁই ফেলার সময় চিহ্নিত করা হয়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন