০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মতলব উত্তরে চরপাথালিয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য, বেতন বন্ধ রাখার পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি!

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / ১২১

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব উত্তর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরপাথালিয়া নুরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলামকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার পর তাঁর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করা যাবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. জহিরুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করান। এরপর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান বাবু কাঞ্চন কুমার সরকার। কিন্তু গত তিন মাস ধরে জহিরুল ইসলামের বেতন-ভাউচারে স্বাক্ষর করছেন না তিনি।

এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এখন আমার ন্যায্য বেতনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম দুরবস্থায় আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন কুমার সরকার বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মনির হোসেন পাটোয়ারী, সেলিম দেওয়ান’সহ স্থানীয়রা আমাকে বলেছেন, যেন জহিরুল ইসলামের বেতন-ভাউচারে স্বাক্ষর না দেই। তারা বলেছে, স্বাক্ষর করলে আমাকে হেনস্তা করা হবে। তাই আমি ভয়ে সই করিনি।

অন্যদিকে প্রভাবশালী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “এলাকাবাসীর অনেকেই জহির মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি ঠিকমতো স্কুলে আসেন না। অনুপস্থিত থাকার পরও কিভাবে তিনি বেতন নেবেন, সেটা তো প্রশ্নের বিষয়।

তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বেতন বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৪ জানুয়ারি ও ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের দুই দফা আদেশে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক পদত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন-ভাতা চালু রাখতে হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়টির এডহক কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমি শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বেতন-সংক্রান্ত কাগজে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কেন স্বাক্ষর করেননি, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমি তাঁকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
স্থানীয়ভাবে শিক্ষক সমাজ বলছে, সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের চাপে একজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে রাখা দুর্ভাগ্যজনক এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

মতলব উত্তরে চরপাথালিয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য, বেতন বন্ধ রাখার পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি!

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব উত্তর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরপাথালিয়া নুরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলামকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার পর তাঁর বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধ করা যাবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি মো. জহিরুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করান। এরপর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান বাবু কাঞ্চন কুমার সরকার। কিন্তু গত তিন মাস ধরে জহিরুল ইসলামের বেতন-ভাউচারে স্বাক্ষর করছেন না তিনি।

এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এখন আমার ন্যায্য বেতনও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমি মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম দুরবস্থায় আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন কুমার সরকার বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মনির হোসেন পাটোয়ারী, সেলিম দেওয়ান’সহ স্থানীয়রা আমাকে বলেছেন, যেন জহিরুল ইসলামের বেতন-ভাউচারে স্বাক্ষর না দেই। তারা বলেছে, স্বাক্ষর করলে আমাকে হেনস্তা করা হবে। তাই আমি ভয়ে সই করিনি।

অন্যদিকে প্রভাবশালী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “এলাকাবাসীর অনেকেই জহির মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি ঠিকমতো স্কুলে আসেন না। অনুপস্থিত থাকার পরও কিভাবে তিনি বেতন নেবেন, সেটা তো প্রশ্নের বিষয়।

তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বেতন বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৪ জানুয়ারি ও ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের দুই দফা আদেশে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক পদত্যাগ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন-ভাতা চালু রাখতে হবে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়টির এডহক কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমি শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বেতন-সংক্রান্ত কাগজে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কেন স্বাক্ষর করেননি, তা খতিয়ে দেখা হবে। আমি তাঁকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
স্থানীয়ভাবে শিক্ষক সমাজ বলছে, সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের চাপে একজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে রাখা দুর্ভাগ্যজনক এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি সমাধান সম্ভব নয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন