শিশুরা ভয় পায়, পোষা প্রাণীর প্রাণ যাচ্ছে, বাড়ির সামনে ঘোরে শিয়ালের দল
শিয়ালের আতঙ্কে রাত কাটে মতলব উত্তরের মানুষজন
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
- / ৪৩৩

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শিয়ালের আধিপত্য দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে রাত নামলেই শুরু হয় শিয়ালের বিচরণ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিয়ালের দল রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, ঢুকে পড়ে বাড়ির আঙিনায়, এমনকি একাধিকবার বাড়ির ভেতরেও ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকে সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পান না।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে প্রতি রাতে অন্তত ৮-১০টি শিয়াল একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কিছু কিছু এলাকায় একসঙ্গে আরও বেশি সংখ্যক শিয়ালের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা শুধু ভয় ছড়ায় না, পোষা প্রাণীর ওপরও হানা দেয়। গ্রামের অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, তাদের হাঁস-মুরগি, কবুতর এমনকি ছোট ছাগল পর্যন্ত শিয়াল ধরে নিয়ে গেছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন খামারিরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শিয়ালের কামড়ে কয়েকজন কৃষক আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
শিয়ালের উপদ্রব হঠাৎ করে কেন বেড়ে গেল—তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। কেউ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বন্যার ফলে শিয়ালগুলো অন্য এলাকা থেকে নদীপথে ভেসে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, শ্রীরায়েরচর এলাকায় নির্মিত নতুন ব্রিজের কারণে শিয়াল সহজেই পাশ্ববর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে এই অঞ্চলে প্রবেশ করছে।
মতলব উত্তরের ছেংগারচর, দেওয়ানজীকান্দি, পাঁচআনী, বদরপুর, গজরা, টরকী, রাঢ়ী কান্দি, শ্রীরায়েরচরসহ একাধিক ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলছেন, দিনের বেলা তেমন একটা দেখা না গেলেও রাত নামলেই যেন শিয়ালের রাজত্ব শুরু হয়। অনেক শিশু রাতে কান্নাকাটি করে, বাইরে বের হতে চায় না। পরিবারের লোকজন সবসময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আবুল খায়ের জানান, গত সপ্তাহে আমার তিনটি মুরগি নিয়ে গেছে শিয়াল। আগে কখনো এমন সমস্যায় পড়িনি। এখন প্রতিদিনই আশঙ্কা থাকে—রাতে কিছু না কিছু নিয়ে যাবে।
একই কথা জানান স্কুলশিক্ষক শামীমা আক্তার। তিনি বলেন, আমার ছোট বাচ্চারা এখন রাতে একা ঘরের বাইরে যেতে ভয় পায়। প্রতিদিন রাতের বেলায় শিয়ালের ডাক শোনা যায়। অনেক সময় বাড়ির সামনে ৪-৫টি শিয়াল একসাথে ঘুরে বেড়ায়। এটা খুবই ভয়ের।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, শিয়ালের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রকৃতিক কারণ থাকতে পারে। আমরা এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করব, প্রয়োজনে বন বিভাগের সহায়তা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, এ বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। শিয়ালের আক্রমণ ঠেকাতে ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শিয়াল তাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শুধু প্রাণী নয়, শিশু বা বৃদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে। এজন্য তারা জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করছেন।



























