প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল মাঠে কোরবানির পশুর হাট
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / ৩১

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট না বসানোর ব্যাপারে কড়াকড়ি নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও ইজারাদাররা ভিন্ন নামে বাজার ইজারা নিয়ে কৌশলে স্কুল মাঠ ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শুক্রবার ও শনিবার সরেজমিনে উপজেলার মমরুজকান্দী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, সটাকী বাজার সংলগ্ন শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, এখলাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গজরা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁশের খুঁটি স্থাপন, অস্থায়ী শেড নির্মাণ এবং বড় বড় সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ও মশা-মাছির উপদ্রবে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়বে।
এ বিষয়ে মমরুজকান্দী সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা স্কুল মাঠে গরুর হাট বসানোর জন্য নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় লোকজন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ স্যারের সঙ্গে কথা বলে মাঠে হাট বসিয়েছে।
নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ উল্লাহ বলেন, আমাকে না জানিয়েই স্থানীয় লোকজন স্কুল মাঠে গরুর হাট বসিয়েছে। যতটুকু জানি, হাট থেকে আদায়কৃত টাকা একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় দেওয়া হয়।
এদিকে সটাকী গো-হাটের বাজারের ইজারাদার লাদেন সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে শরীফ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে গজরা গরুর হাটের ইজারাদার কবির হোসেন দাবি করেন, শিল্পকলা একাডেমির মাঠে পশুর হাট বসানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রক্ষায় প্রশাসনের শিথিলতা এবং ইজারাদারদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত এসব হাট অপসারণ করে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, স্কুল ও কলেজ মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সব ইজারাদারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কোথাও স্কুল-কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























