আল-আরাফাহ ইসলামি এজেন্ট ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪৬

প্রতিদিনের নিউজ:
সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং আউটলেট শাখার আল-আরাফাহ ইসলামি (এজেন্ট) ব্যাংক গ্রাহকদের গ্যাস বিলের জমা টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
রবিবার,২৬ এপ্রিল হীরাঝিল আবাসিক এলাকার ১নং রোডে ফেন্ডস টাওয়ারে আল-আরাফাহ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের শাখায় তিতাস গ্যাস বিলের টাকা জমা না হওয়ায় হট্টগোল করেন কয়েকজন গ্রাহক।
হীরাঝিল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল বলেন, হীরাঝিল ১নং গলিতে অবস্থিত আল আরাফাহ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকে প্রতিমাসে আমার বাড়ির গ্যাস বিল জমা দিয়ে আসছি। গত কয়েকদিন নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আমার বাড়ি গ্যাস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিতাস গ্যাসের কর্তৃপক্ষকে বাড়ির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন আপনার বকেয়া রয়েছে।
পরে আমি কর্তৃপক্ষকে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের (এজেন্টে) এর জমা ভাউচার দেখালে তারা যাচাই বাছাই করে দেখেন টাকা জমা হয়নি। রবিবার সকালে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্টের অফিসে গিয়ে টাকা জমার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। আমার টাকা সমাধান করে দিবে বলে জানায়। আমার এক লাখ তিন হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে এজেন্ট ব্যাংকের লোকজন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সিআই খোলা এলাকার বাসিন্দা মো. সালাম, আমার ৯ মাসের গ্যাস বিল জমা দেয়নি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা। তারা আমার গ্যাস বিলের টাকা নিয়ে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ভাউচারে ভুয়া সিল দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি সেই সাথে এজেন্ট ব্যাংকের আত্মসাৎকারী বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
হীরাঝিল এলাকার জসিম উদ্দিন জানান, আমারও ৯ মাসের গ্যাস বিলের টাকা জমা দেয়নি আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আমার লাইনটিও কেটে দিয়েছে। আমার কোন তিতাস গ্যাসের বকেয়া বিল নেই। অসুস্থ একটু সুস্থ হয়ে এজেন্ট ব্যাংকের লোকজনকে ধরে পুলিশে দিব।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হীরাঝিলে আল আরাফাহ ইসলামী এজেন্ট শাখা দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে এ চক্রটি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ জানিয়েছেন এলাকাবাসী এবং আল আরাফাহ ইসলামী এজেন্ট শাখার মালিক জহির, ক্যাশিয়ার আল মামুন ও অপারেশন অফিসার সবুররা মিলে এ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানায় এলাকাবাসী। তাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
অভিযুক্ত সবুর ও ক্যাশিয়ার আল মামুন প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেখালেও পরে নিজেদের প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
তারা বলেন, এসব করেছেন এজেন্টের মালিক জহির। আমরা তাকে বারবার বলেছি গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে কিন্তু তিনি দেয়নি।
উক্ত বিষয় জানতে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের হেড অফিসের ডিএমডি আমিনুল ইসলাম বলেন, হীরাঝিলের এজেন্ট ব্যাংকের উনারা যে সফটওয়্যার অজুহাত দেখিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়া। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এজেন্ট ব্যাংকের জন্য যদি আমাদের ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় তাহলে কাউকে ছাড় হবে না। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।

























