তিনজনের ঘাড়ে ১৮০ প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামলাতে হচ্ছে মতলব উত্তরের হাজার শিক্ষক
- আপডেট সময় : ১০:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩৮

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে জনবল সংকটে বেহাল প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন। মাত্র দুইজন সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন হিসাবরক্ষক দিয়ে চলছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম। দাপ্তরিক জনবল সংকটের পাশাপাশি উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিদ্যালয় পরিচালনায় বাড়ছে চাপ।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন। এছাড়া দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী রয়েছেন ১১৩ জন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিনটি সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষা অফিস।
একদিকে শিক্ষা অফিসে নেই প্রয়োজনীয় জনবল, অন্যদিকে ১৮০ বিদ্যালয়ের ১১৭টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বাড়ছে চাপ। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ এবং বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়নের দাবি শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের।
৯ নম্বর দক্ষিণ ব্যাসদী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়ের উদ্দিন বলেন, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা হয়। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়ন করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সমন্বয় করতে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে আমাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অনেকগুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাজেও চাপ কমবে।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বেগম বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় জনবল সংকট রয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকসহ কিছু পদ শূন্য রয়েছে এ বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমাদের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুজন সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে পুরো উপজেলা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে জনবল বৃদ্ধির জন্য। এছাড়া আমি আলাদাভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিষয়ে সুপারিশ করেছি।



















