এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সাংবাদিকতা নিষেধাজ্ঞা : এবার চাই কার্যকর বাস্তবায়ন
- আপডেট সময় : ১০:০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪

আফজাল হোসেন চাঁদ:
কোনো আইন, বিধি কিংবা সরকারি নীতিমালার সবচেয়ে বড় শক্তি তার লিখিত অস্তিত্বে নয়, বরং তার যথাযথ বাস্তবায়নে। রাষ্ট্র কোনো বিধান জারি করে যদি তা কার্যকর না করে, তাহলে সেই বিধান একসময় মানুষের কাছে কেবল কাগজের অক্ষরে পরিণত হয়। আর যখন কোনো বিধান সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন আইনের প্রতি মানুষের আস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতাসহ আর্থিক লাভজনক অন্য পেশায় যুক্ত থাকার নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সরকার কি এই বিধান বাস্তবে কার্যকর করবে? ২০২৫ সালের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’ তে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। নীতিমালার ১১.১৭(ক) তে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। একই ধারার (খ) তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞায় সাংবাদিকতা, কাজী ও আইন পেশার মতো কাজ থেকে পাওয়া বেতন, ভাতা বা সম্মানীর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি এখন আর শুধু ‘শিক্ষক সাংবাদিকতা করবেন কি করবেন না’ এমন নৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। সরকার যখন একটি নীতিমালার মাধ্যমে অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তখন মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত নীতিমালাটি কীভাবে এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। অনিয়ম-দুর্নীতি, অপরাধ, জনদুর্ভোগ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাগরিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের নানা অসংগতি মানুষের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকতার অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে একজন ব্যক্তি একই সময়ে এমন দুটি পেশায় থাকবেন, যাদের দায়িত্ব, সময় ও পেশাগত স্বার্থের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে। একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি অর্থায়নের সুবিধা গ্রহণ করেন। বিনিময়ে তার ওপর নির্ধারিত পেশাগত দায়িত্ব রয়েছে নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা। এর পাশাপাশি যদি তিনি নিয়মিত সাংবাদিকতাসহ অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকেন এবং সেখান থেকে বেতন, ভাতা বা সম্মানী গ্রহণ করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে উভয় পেশার সময় ও দায়িত্ব তিনি কীভাবে সমন্বয় করছেন? এখানেই নীতিমালার বিধানটির বাস্তবিক গুরুত্ব রয়েছে। নীতিমালার কাঠামো থেকে বোঝা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে আর্থিক লাভজনক দ্বিতীয় পেশার সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোই বিধানটির অন্যতম উদ্দেশ্য। এটি কোনো পেশাকে ছোট করার বিষয় নয় বরং সরকারি অর্থায়নের সুবিধার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্ব ও পেশাগত জবাবদিহির বিষয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার পেশাগত শৃঙ্খলা এই দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। একজন ব্যক্তি সাংবাদিকতা করবেন কি না, সেটি একদিকে যেমন তার পেশাগত স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত, অন্যদিকে তিনি যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন এবং একই সঙ্গে সাংবাদিকতা থেকে আর্থিক সুবিধা নেন, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালার আলোকে বিবেচনা করতেই হবে।
এখন প্রশ্ন নীতিমালা জারির পর বাস্তব পরিস্থিতি কী? বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ, আলোচনা এবং আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। ফলে সরকারের সামনে মূলত দুটি বিষয় নীতিমালার বিধানকে কার্যকর করা এবং সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত রাখা। কোনো বিধান বাস্তবায়নের ইচ্ছা না থাকলে সেটি জারি করার প্রয়োজনই বা কেন? আবার বিধান কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থাকলে তা হতে হবে সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে। কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কিংবা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয় বরং নীতিমালার নির্ধারিত বিধান অনুসারেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘তদন্তে প্রমাণিত হলে’ ধরনের প্রক্রিয়াকে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা। অর্থাৎ অভিযোগ পাওয়া মাত্র কাউকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না। আবার অভিযোগকে বছরের পর বছর ফাইলবন্দি করে রাখাও সমাধান নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, উপস্থিতির রেকর্ড, নিয়োগ বা কর্মসংক্রান্ত নথি, সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বেতন, ভাতা বা সম্মানী গ্রহণের তথ্য বিধি অনুযায়ী যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তদন্তে বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে নীতিমালায় নির্ধারিত ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে হবে। এখানে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেবল কোনো সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র থাকা, কোনো প্রতিবেদনে নাম প্রকাশিত হওয়া বা সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হওয়াকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্থিক লাভজনক পেশার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা সমীচীন হবে না। আবার সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিয়মিত বেতন, ভাতা, সম্মানী বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিকেও উপেক্ষা করা যাবে না। সরকারকে তাই একটি সুস্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে। এতে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং অযথা হয়রানির সুযোগও কমবে। সরকার চাইলে প্রতিটি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে নির্ধারিত ছকে স্বঘোষণাপত্র নিতে পারে। সেখানে তিনি অন্য কোনো চাকরি, ব্যবসা, সাংবাদিকতা, আইন পেশা কিংবা আর্থিক লাভজনক কাজে যুক্ত আছেন কি না, তা উল্লেখ করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান, উপজেলা বা জেলা শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথির সঙ্গে এসব তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা সম্ভব। শুধু শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই নয়, সরকারি বা সরকারি অর্থায়িত কোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগী সব পেশাজীবীর ক্ষেত্রেই পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহির নীতি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের কোনো সুবিধা গ্রহণ করেন, তাহলে সেই সুবিধার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এটি কোনো পেশাকে খাটো করার বিষয় নয় এটি পেশাগত শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বিষয়।
তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে আরেকটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যারা শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের জন্য সুস্পষ্ট সময়সীমা ও প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। হঠাৎ করে কাউকে পর্যাপ্ত নির্দেশনা ও সময় না দিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করা যেমন প্রশাসনিকভাবে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অস্পষ্টতাও তৈরি করতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সরকার নির্দিষ্ট সময় দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ পেশাগত অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দিতে পারে। কেউ শিক্ষকতা অব্যাহত রাখতে চাইলে নীতিমালার আওতায় সাংবাদিকতার আর্থিক পেশাগত সম্পর্ক থেকে সরে আসবেন আর সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে অব্যাহত রাখতে চাইলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকতার বিষয়টি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবেন। এতে রাষ্ট্রের নীতিও বজায় থাকবে এবং প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন একই নিয়ম একেকজনের ক্ষেত্রে একেকভাবে প্রয়োগ করা হয়। একজন শিক্ষক সাংবাদিকতার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন এমন প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো, অথচ একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য কেউ প্রভাব বা পরিচয়ের কারণে সুবিধা পেলেন এমন অভিযোগ তৈরি হলে নীতিমালার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান, প্রতিষ্ঠানগত প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিবেচনা করা উচিত নয়। নীতিমালার বিধান সবার জন্য সমান এই নীতিই হতে হবে মূল ভিত্তি। কাউকে টার্গেট করে নয়, কাউকে ছাড় দিয়ে নয় বরং প্রমাণ, তদন্ত ও বিধানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে শিক্ষা প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। এমপিওভুক্তির অর্থ শুধু মাসিক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা নয় এর সঙ্গে রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় বিনিয়োগ জড়িত। একজন শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থাকলে বা অন্য পেশায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে তার প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়তে পারে। একটি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না শত শত শিক্ষার্থীর পাঠদানের ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে সাংবাদিকতার পেশাতেও সংবাদ সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি, অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হয়। ফলে কেউ যদি একই সময়ে দুটি পেশার পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের দাবি করেন, তাহলে সময় ও দায়িত্বের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আর্থিক লাভজনক দ্বিতীয় পেশার ওপর নীতিমালায় যে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে, সেই বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন প্রয়োজন কথার চেয়ে কাজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। কোন পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে, কে তদন্ত করবেন, কী ধরনের নথি যাচাই করা হবে, কত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে এবং বিধান লঙ্ঘিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এসব বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষক সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা যেতে পারে। কারণ একটি বিধান কার্যকর করার সময় বাস্তবতার জটিলতা বোঝা প্রয়োজন। তবে আলোচনা মানে বিধানকে অকার্যকর করে দেওয়া নয়। আলোচনা হবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত করার জন্য। সরকারের কাছে তাই মূল প্রত্যাশা হওয়া উচিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সাংবাদিকতাসহ আর্থিক লাভজনক দ্বিতীয় পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে নীতিমালায় যে বিধান রয়েছে, তা শুধু নীতিমালার পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করা হোক। একই সঙ্গে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন পদ্ধতি নিশ্চিত করা হোক। কেউ শিক্ষকতা করবেন, কেউ সাংবাদিকতা করবেন দুটিই সম্মানজনক পেশা। কিন্তু একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি পেশার আর্থিক ও পেশাগত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন কি না, সেটি ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নির্ধারিত বিধানের বিষয়। সরকার যখন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, তখন সেটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। নীতিমালা যদি শুধু কাগজে থাকে, তাহলে নিয়ম মেনে চলা শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিও অন্যায় হবে। কারণ একজন নিয়ম মেনে একটি পেশাকে অগ্রাধিকার দেবেন, আর অন্য কেউ একই বিধান অমান্য করেও সুবিধা ভোগ করবেন এটি সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাই এখন সময় এসেছে পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সাংবাদিকতাসহ আর্থিক লাভজনক দ্বিতীয় পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত যদি কার্যকর থাকে, তবে সেটি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নির্ধারিত বিধি অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হবে। কাউকে টার্গেট করে নয়, কাউকে ছাড় দিয়ে নয় নীতিমালার ভাষা ও প্রমাণের ভিত্তিতে। রাষ্ট্রের আইন ও নীতিমালার মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন তার প্রয়োগ ব্যক্তি দেখে নয়, বিধান দেখে হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্বিতীয় আর্থিক লাভজনক পেশার ক্ষেত্রেও সরকারের সামনে এখন সেই পরীক্ষাই। নীতিমালা জারি হয়েছে; এবার প্রয়োজন তার স্বচ্ছ, সমান ও কার্যকর বাস্তবায়ন। -লেখক, কলামিস্ট ও সংবাদকর্মী।



















