০২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চাটখিলে প্রতারক প্রবাসী সোহেল রানা দফায় দফায় স্ত্রীর উপর অমানবিক নির্যাতন, নগ্ন ভিডিও ধারণ মামলায় জেল হাজতে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২৭

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার করটখিল গ্রামের বর্ধন বাড়ির প্রবাসী সোহেল রানা (৩৬) নিজেকে অবিবাহিত যুবক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে দফায় দফায় ২য় স্ত্রীকে নির্যাতন, নগ্ন ভিডিও ধারণ করায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী জেল হাজতে। নির্যাতিত স্ত্রী শাহানাজ (৩০) গত শুক্রবার সকালে চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাকে দফায় দফায় নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

শাহনাজ সাংবাদিকদের জানান, গত প্রায় ৫ বছর আগে প্রবাসী সোহেল রানার সাথে পরিচয় হয়। তার নিজের স্ত্রী ও ২সন্তানের কথা গোপন রেখে গত ( ৫ মে) প্রবাস থেকে সরাসরি কুমিল্লায় শাহনাজ বেগমের বাড়ীতে উঠে। ঐ দিনে তারা নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে কোর্ট এফিডেভিট করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে একসাথে বসবাস শুরু করে। ৫/৬ দিন পর সোহেল রানা মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কুমিল্লা থেকে চাটখিলে নিজের বাড়ীতে চলে আসে। ১৬ মে সোহেল রানা শাহানাজ কে কুমিল্লা থেকে সন্ধ্যায় নিজের করটখিলের বাড়ীতে নিয়ে আসে। এখানে এসে শাহনাজ দেখতে পায় সোহেল রানার এক স্ত্রী ও ২ সন্তান রয়েছে। তারপরও শাহনাজ তার ২য় স্ত্রী হিসেবে ঘরসংসার করতে রাজি থাকলেও তার প্রথম স্ত্রী ও তার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন রানা কে একটি ঘরে আটক করে রেখে শাহনাজ কে ঘর থেকে বের করে দেয়। শাহনাজ রাতেই চাটখিল থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর শাহনাজ কুমিল্লায় গিয়ে নারী নির্যাতন আইনে কুমিল্লা জজকোর্টে মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় রানাকে চাটখিল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এরপরে রানার আত্মীয়-স্বজন একত্রিত হয়ে শাহনাজের কাছে অনুনয় বিনয় করে শাহানাজের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুপক্ষের উকিল দিয়ে সোহেল রানা জামিনে মুক্তি পায় গত ৬ জুলাই। ৭ জুলাই রানা ও তার আত্মীয়-স্বজন কুমিল্লা থেকে শাহনাজ কে আবার করটখিলের বাড়ীতে নিয়ে আসে। এখানে আনার ২/৩ দিন পর আবারও তার উপর অমানবিক নির্যাতন ও তাকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে। অসুস্থ শাহনাজ কে থানা পুলিশ উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসার পর শাহানাজ গত ২১ জুলাই চাটখিল থানায় সোহেল রানা, আকবর হোসেন, মিজান সহ ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৫, তারিখ: ২১/০৭/২০২৬ইং। এই মামলায় গত বৃহস্পতিবার সোহেল রানা আদালতে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

শাহনাজ সাংবাদিকদের মাধ্যমে সোহেল রানা সহ তার উপর নির্যাতন কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

চাটখিলে প্রতারক প্রবাসী সোহেল রানা দফায় দফায় স্ত্রীর উপর অমানবিক নির্যাতন, নগ্ন ভিডিও ধারণ মামলায় জেল হাজতে

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার করটখিল গ্রামের বর্ধন বাড়ির প্রবাসী সোহেল রানা (৩৬) নিজেকে অবিবাহিত যুবক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে দফায় দফায় ২য় স্ত্রীকে নির্যাতন, নগ্ন ভিডিও ধারণ করায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী জেল হাজতে। নির্যাতিত স্ত্রী শাহানাজ (৩০) গত শুক্রবার সকালে চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাকে দফায় দফায় নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

শাহনাজ সাংবাদিকদের জানান, গত প্রায় ৫ বছর আগে প্রবাসী সোহেল রানার সাথে পরিচয় হয়। তার নিজের স্ত্রী ও ২সন্তানের কথা গোপন রেখে গত ( ৫ মে) প্রবাস থেকে সরাসরি কুমিল্লায় শাহনাজ বেগমের বাড়ীতে উঠে। ঐ দিনে তারা নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহরে কোর্ট এফিডেভিট করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে একসাথে বসবাস শুরু করে। ৫/৬ দিন পর সোহেল রানা মায়ের অসুস্থতার কথা বলে কুমিল্লা থেকে চাটখিলে নিজের বাড়ীতে চলে আসে। ১৬ মে সোহেল রানা শাহানাজ কে কুমিল্লা থেকে সন্ধ্যায় নিজের করটখিলের বাড়ীতে নিয়ে আসে। এখানে এসে শাহনাজ দেখতে পায় সোহেল রানার এক স্ত্রী ও ২ সন্তান রয়েছে। তারপরও শাহনাজ তার ২য় স্ত্রী হিসেবে ঘরসংসার করতে রাজি থাকলেও তার প্রথম স্ত্রী ও তার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন রানা কে একটি ঘরে আটক করে রেখে শাহনাজ কে ঘর থেকে বের করে দেয়। শাহনাজ রাতেই চাটখিল থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর শাহনাজ কুমিল্লায় গিয়ে নারী নির্যাতন আইনে কুমিল্লা জজকোর্টে মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় রানাকে চাটখিল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এরপরে রানার আত্মীয়-স্বজন একত্রিত হয়ে শাহনাজের কাছে অনুনয় বিনয় করে শাহানাজের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুপক্ষের উকিল দিয়ে সোহেল রানা জামিনে মুক্তি পায় গত ৬ জুলাই। ৭ জুলাই রানা ও তার আত্মীয়-স্বজন কুমিল্লা থেকে শাহনাজ কে আবার করটখিলের বাড়ীতে নিয়ে আসে। এখানে আনার ২/৩ দিন পর আবারও তার উপর অমানবিক নির্যাতন ও তাকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে। অসুস্থ শাহনাজ কে থানা পুলিশ উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসার পর শাহানাজ গত ২১ জুলাই চাটখিল থানায় সোহেল রানা, আকবর হোসেন, মিজান সহ ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৫, তারিখ: ২১/০৭/২০২৬ইং। এই মামলায় গত বৃহস্পতিবার সোহেল রানা আদালতে গেলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

শাহনাজ সাংবাদিকদের মাধ্যমে সোহেল রানা সহ তার উপর নির্যাতন কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।