এতিমদের চাল আত্মসাৎ অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি এমপি ড. জালাল উদ্দিনের, পুনঃতদন্তের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / ৪০

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এতিমখানার জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার মুখ খুলেছেন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, এতিমদের ২৫ টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে এ ধরনের প্রচার মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি মতলব উত্তর উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি ড. জালাল উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার জীবনে কি এমন কোনো রেকর্ড আছে যে আমি হারাম খেয়েছি? আল্লাহ যেন আমাকে চাউলের এক কোটি ভাগের এক ভাগও হারাম না খাওয়ান। আর যেদিন আমার অবস্থা এমন হবে যে মানুষের হক মেরে চলতে হবে, সেদিন যেন আল্লাহ আমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ প্রকাশের পরই তিনি প্রশাসনের সঙ্গে বসে সরকারি রেজিস্টার ও চাল উত্তোলনের কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে কোন এতিমখানা, কে, কখন এবং কত পরিমাণ চাল গ্রহণ করেছেন এসব তথ্য ও স্বাক্ষর সংরক্ষিত রয়েছে।
এমপি বলেন, এখানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে কোন মাদ্রাসার কে, কখন, কতটুকু চাল নিয়েছে। তাহলে চাল চুরি হলো কোথায়? যারা ফেসবুকে ট্রল করছেন, তারা প্রমাণ দিন। যদি সত্যিই চাল তছরুপ হয়ে থাকে, সে যে-ই হোক, মতলবের মাটিতে তার রক্ষা নেই। আইন অনুযায়ী বিচার হবে।
তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনিকে পুনঃতদন্তের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমি নিজেও একটি তিন সদস্যের টিম দিয়ে বিষয়টি দেখছি। আমার দেখা কাগজপত্রে তছরুপের কোনো প্রমাণ পাইনি। তারপরও তদন্তে যদি অনিয়ম পাওয়া যায়, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সে আমার দলের হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি খায়রুল হাসান বেনুও অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কেউ অনিয়ম করে থাকলে তার বিচার হোক, তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, টাকা ফেরত দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত মনির হোসেন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। একটি মহল আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এমদাদুল হক বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বরাদ্দপত্র (ডিও) ইস্যু করা হয়েছে এবং সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে মানসম্মত চাল বিতরণ করা হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ-পরবর্তী পর্যায়ে বাইরে কেউ কোনো অনিয়ম করে থাকলে সেটি তদন্তের বিষয়।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্তে একটি ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির আহ্বায়ক সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্ল্যাহ, সদস্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী, সদস্য সচিব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোবারক হোসেন। তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এতিমখানার জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি দাবি, অভিযোগ ও ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের ওপরই অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে।
















