জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার স্ত্রীর আত্মহত্যা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / ২৩

চাটখিল প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় দুই সন্তানের জননী লিমা আক্তার শশী (২৬) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের সাধুরখিল গ্রামের আহাম্মদ বেপারি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অনলাইন জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত হওয়া স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর পিতা মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে মেয়ে জামাই আশিক হোসেন (৩২) এর বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে উপজেলার সাধুরখিল গ্রামের মো. আক্তার হোসেনের ছেলে আশিক হোসেনের সাথে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে লিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে আড়াই বছর বয়সি জমজ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী আশিক হোসেন বিভিন্ন পারিবারিক কারণে লিমাকে গালমন্দ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। বিগত কয়েক মাস ধরে আশিক মোবাইলে ক্যাসিনো খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েন এবং এক নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। স্ত্রী লিমা আক্তার এসবের প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং লিমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যেত। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে স্বামীর বসতঘরের শয়নকক্ষে নির্যাতনের একপর্যায়ে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে লিমা আক্তার শশী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েটার ওপর নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। আমার মেয়ে এসবের প্রতিবাদ করায় তার ওপর অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ওরা আমার মেয়েটাকে এমনভাবে নির্যাতন করেছে যে, সে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আমি আমার মেয়ের আত্মহত্যার পেছনে দায়ী আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই।
চাটখিল থানার ওসি মো. আব্দুল মোন্নাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
















