মতলব উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদের জেরে দোকানে হামলা-ভাঙচুর
- আপডেট সময় : ০৮:১০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / ৪৮

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল বাবুর বাজারে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে একটি ভ্যারাইটিজ দোকানে হামলা, ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরদিন শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেছেন দোকান মালিক ও অভিযোগকারী মো. জিয়া উদ্দিন। এ ঘটনায় তিনি মতলব উত্তর থানায় বাদল সরকার, রফিক সরকারসহ ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-৯ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জিয়া উদ্দিন দাবি করেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় তামিম নামে এক যুবক তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গেলে কয়েকজন যুবক তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও ইভটিজিং করে। এ সময় তামিম, শেখ ফরিদ ও লিমন প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তামিমকে মারধরের চেষ্টা করা হলে তিনি দৌড়ে এসে জিয়া উদ্দিনের ভাই ভাই স্টোর নামের ভ্যারাইটিজ দোকানে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্বের ঘটনার জের ধরে বাদল সরকার, রফিক সরকারসহ অভিযুক্তরা অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে দোকান মালিক জিয়া উদ্দিন, তার ছেলে ইমন, লিমন, শেখ ফরিদ, ইসমাইল ও তামিমকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তারা আহত হন।
এ সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি আরটিআর মোটরসাইকেল এবং দোকানের সামনে রাখা আরেকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া দোকানের বিভিন্ন মালামাল নষ্ট করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। হামলাকারীরা দোকানের ক্যাশবক্স থেকে বিকাশের টাকা ও বিক্রির নগদ অর্থসহ প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জিয়া উদ্দিন।
বিবাদী পক্ষের দাবি, মামলার বাদী মো. জিয়া উদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক অভিযোগ এনে সমাজে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। তারা অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















