বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষির দিকে নজর দিতে হবে : সাবিরা সুলতানা এমপি
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৯

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা :
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে যশোরের ঝিকরগাছায় তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত ৩১৪ মহিলা আসন-১৪ এর জাতীয় সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি। ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডব্লিউএম) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় এ মেলার আয়োজন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন ৩১৪ মহিলা আসন-১৪ এর জাতীয় সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত জায়গা পর্যন্ত যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি আধুনিক ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের শ্রম, সময় ও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলায় কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক এম সাইফুল্লাহ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়নের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকরা যেন মেলায় প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে পারেন এবং নিজেদের জমিতে তা প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে অধিক ফলন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বসতবাড়ির আঙিনায় পুষ্টিবাগান স্থাপনের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ হলরুমে মেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের বাস্তব ধারণা দিতে বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি প্রদর্শন, আধুনিক কৃষি যন্ত্র ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার প্রদর্শন, ফুল ও ফুলের উপজাত পণ্য প্রদর্শন, কৃষি বিষয়ক মোবাইল অ্যাপস শেয়ারিং, কৃষিসমৃদ্ধ ঝিকরগাছা উপজেলার মানচিত্র প্রদর্শন, জৈব বালাইনাশক প্রদর্শন, উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজি ও ফল প্রদর্শন এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা। এ ছাড়া বসতবাড়ির আঙিনায় পুষ্টিবাগান স্থাপন, ক্লাইমেট স্মার্ট স্কুল ও ক্লাবসহ কৃষির সঙ্গে জলবায়ু সহিষ্ণু প্রযুক্তির সমন্বয় করে বিভিন্ন উদ্যোগও মেলায় তুলে ধরেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মোল্লা, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম, থানার উপ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুস সমাদ, উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মফিজুর রহমান, উপ সহকারী কৃষি অফিসার নয়নানন্দন পাল নয়ন, মহাদেব কুমার দাস, আইয়ুব হোসেন, অর্ধেন্দু কুমার পাড়ে, মফিজুর রহমান, রোকুনুজ্জামান সহ অন্যান্য উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, উদ্যোক্তা কৃষক বৃন্দ।









