১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

চাটখিলে ভূমি অফিসে ঘুষ দিয়ে এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অন্যের সম্পত্তি নিজ নামে রেকর্ড করার অভিযোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩১

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

চাটখিল পৌর শহরের পৌর ভূমি অফিসে ঘুষ প্রদান করে ও প্রভাব খাটিয়ে ওয়ারিশি সম্পত্তি নিজ নামে রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পৌর তহশীলদার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে এ কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। এদের বিচার দাবি করে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমান লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, তাদের পৈত্রিক ওয়ারিশি সম্পত্তি তারা দীর্ঘদিন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছে এবং তারা এ যাবৎ কালের খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। গত কিছুদিন পূর্বে নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টক হওয়ার পর এপ্রিল মাসের ২১ তারিখে চাটখিল পৌর তহশীল অফিসে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের নামে খসড়া খতিয়ান সৃজিত হয়। যার আবেদন নম্বর ১০৯০০৯৬০ (৮১১৫/২৬Ñ২৭)। কিন্তু পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ জুলাই মাসের ৩০ তারিখে একটি নতুন দলিল সম্পাদন করিয়া আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পৌর তহশীলদার হুমায়ুন কবিরকে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে তার স্ত্রী, শালী ও অপর অংশীদারের নামে হিস্যার অতিরিক্ত ভুমি খতিয়ান করে নেয়। যার বিরুদ্ধে আমরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট মিস কেইস আবেদন করি।

পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ আমাদের আবেদন কে বাতিল করার জন্য কতিপয় দালাল ও ভূমি অফিসের পিয়ন জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার অবৈধ লেনদেন করেন, জাহাঙ্গীর কাজ করতে দেরি করা এবং আরো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় আব্দুল লতিফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। এতে প্রমাণিত হয় আব্দুল লতিফ বিগত দিনে ঘুষের মাধ্যমে এবং তার সাবেক কৃষি কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে তার জায়গার খতিয়ান সম্পাদন করেছেন। আমরা সাবেক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ ও তহশিলদার হুমায়ুন কবিরের বিচার দাবি করছি। মানববন্ধন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
আব্দুল লতিফ ঘুষ দিয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং আমি এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি আমাকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। পরবর্তীতে আমি ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে উনার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে পৌর তহশীলদার হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করব।

চাটখিলে ভূমি অফিসে ঘুষ দিয়ে এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অন্যের সম্পত্তি নিজ নামে রেকর্ড করার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

চাটখিল পৌর শহরের পৌর ভূমি অফিসে ঘুষ প্রদান করে ও প্রভাব খাটিয়ে ওয়ারিশি সম্পত্তি নিজ নামে রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পৌর তহশীলদার হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে এ কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। এদের বিচার দাবি করে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তারেক রহমান লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, তাদের পৈত্রিক ওয়ারিশি সম্পত্তি তারা দীর্ঘদিন থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছে এবং তারা এ যাবৎ কালের খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। গত কিছুদিন পূর্বে নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টক হওয়ার পর এপ্রিল মাসের ২১ তারিখে চাটখিল পৌর তহশীল অফিসে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের নামে খসড়া খতিয়ান সৃজিত হয়। যার আবেদন নম্বর ১০৯০০৯৬০ (৮১১৫/২৬Ñ২৭)। কিন্তু পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ জুলাই মাসের ৩০ তারিখে একটি নতুন দলিল সম্পাদন করিয়া আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পৌর তহশীলদার হুমায়ুন কবিরকে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে তার স্ত্রী, শালী ও অপর অংশীদারের নামে হিস্যার অতিরিক্ত ভুমি খতিয়ান করে নেয়। যার বিরুদ্ধে আমরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট মিস কেইস আবেদন করি।

পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ আমাদের আবেদন কে বাতিল করার জন্য কতিপয় দালাল ও ভূমি অফিসের পিয়ন জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার অবৈধ লেনদেন করেন, জাহাঙ্গীর কাজ করতে দেরি করা এবং আরো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় আব্দুল লতিফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। এতে প্রমাণিত হয় আব্দুল লতিফ বিগত দিনে ঘুষের মাধ্যমে এবং তার সাবেক কৃষি কর্মকর্তার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে তার জায়গার খতিয়ান সম্পাদন করেছেন। আমরা সাবেক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ ও তহশিলদার হুমায়ুন কবিরের বিচার দাবি করছি। মানববন্ধন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
আব্দুল লতিফ ঘুষ দিয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং আমি এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বললে তিনি আমাকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। পরবর্তীতে আমি ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে উনার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে পৌর তহশীলদার হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করব।