০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল, প্রশ্নের মুখে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার সেতু

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৩

মতলব প্রতিনিধি:

উদ্বোধনের আগেই সেতুতে ফাটল। এখনও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি, অথচ এরই মধ্যে সেতুর বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের চিড়। প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুর এমন অবস্থায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্মাণে অনিয়ম এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঠিকাদার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি। আগে সেখানে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কালভার্ট ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে প্রায় চার মাস আগে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নিচের অংশ থেকে ওপরের কাঠামো পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে চিড় চোখে পড়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ফাটল নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই যদি সেতুর এই অবস্থা হয়, তাহলে চালু হওয়ার পর এটি দীর্ঘদিন টেকসই হবে না।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের শুরু থেকেই তারা অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে বরং প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমনকি কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন প্রধান জানান, দুই কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে না সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। আমরা চাই, স্বাধীনভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক এবং প্রয়োজন হলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হোক।

আরেক বাসিন্দা মেহেদী হাসান মিজি জানান, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ করেছি। কিন্তু আমাদের কথা শোনার বদলে উল্টো নানা অভিযোগ করা হয়েছে। এখন সেতুর নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ফাটল দেখা যাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের ঠিকাদার মো. জহির জানান, সেতুর নির্মাণকাজের মান ঠিক আছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই।

প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গে দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম জানান, বিষয়টি জানার পর ফাটল মেরামতের জন্য কাজ করতে বলা হয়েছে। পুরো কাজ এখন থেকে মনিটরিং করা হবে।

 

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল, প্রশ্নের মুখে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার সেতু

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মতলব প্রতিনিধি:

উদ্বোধনের আগেই সেতুতে ফাটল। এখনও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি, অথচ এরই মধ্যে সেতুর বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের চিড়। প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুর এমন অবস্থায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্মাণে অনিয়ম এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঠিকাদার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি। আগে সেখানে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কালভার্ট ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে প্রায় চার মাস আগে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নিচের অংশ থেকে ওপরের কাঠামো পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে চিড় চোখে পড়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ফাটল নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই যদি সেতুর এই অবস্থা হয়, তাহলে চালু হওয়ার পর এটি দীর্ঘদিন টেকসই হবে না।

স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের শুরু থেকেই তারা অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে বরং প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমনকি কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন প্রধান জানান, দুই কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে না সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। আমরা চাই, স্বাধীনভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক এবং প্রয়োজন হলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হোক।

আরেক বাসিন্দা মেহেদী হাসান মিজি জানান, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ করেছি। কিন্তু আমাদের কথা শোনার বদলে উল্টো নানা অভিযোগ করা হয়েছে। এখন সেতুর নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত ফাটল দেখা যাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের ঠিকাদার মো. জহির জানান, সেতুর নির্মাণকাজের মান ঠিক আছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই।

প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গে দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমাম জানান, বিষয়টি জানার পর ফাটল মেরামতের জন্য কাজ করতে বলা হয়েছে। পুরো কাজ এখন থেকে মনিটরিং করা হবে।