সিদ্ধিরগঞ্জে ৩নং ওয়ার্ডে গুরুর হাট নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা, বেপরোয়া বিএনপি নেতা আফজাল
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / ৪১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির জন্য পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট নিয়ে ৩নং ওয়ার্ডে বিএনপির দুগ্রুপে ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। একই ওয়ার্ডে তিনটি হাট তার মধ্যে দুটি হাট পাশাপাশি হওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাটের দরপত্র আহবান করার পরই ইজারা পাওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন হাট পরিচলানা কমিটি গঠন করে পোষ্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে প্রচারণা শুরু করায় ইতোমধ্যে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদানের জন্য দরপত্র আহবান করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। গত ৭ মে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ৩নং ওয়ার্ডের সানারপাড় লিথি গার্মেণ্টস সংলগ্ন ফজলুর রহমানের খালি জায়গা ও মৌচাক মাদানীনগর বালুর মাঠ এলাকায় দুটি হাটের দরপত্র আহবান করা হয়। তার পর মৌচাক মাদানীনগর বালুর মাঠ থেকে কয়েকশ গজ দূরে পূর্ব নিমাইকাশারী আব্দুল মতিন মাস্টারের খালি জায়গায় আরেকটি হাটের ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহবান করে ১০ মে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিটি করপোরেশন। ফলে পাশাপাশি দুটি হাটের দরপত্র আহবান করায় শুরু হয় সমালোচনা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ ও ২০ মে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩ টায় দরপত্র উন্মুক্ত করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এখনো ইজারাই হয়নি অথচ পূর্ব নিমাইকাশারী আব্দুল মতিন মাস্টারের খালি জায়গার হাটের হাজারাদার পরিচয় দিয়ে ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আফজাল হোসেন ব্যবস্থাপনায় ও জাহাঙ্গীর হোসেন, সেলিম হোসেন, কাজী মারুফ, শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া পরিচালনার দায়ীত্বে রয়েছে উল্লেখ করে পোষ্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে এলাকায় প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে মৌচাক মাদানীনগর বালুর মাঠের হাটের ইজারা পাওয়ার প্রত্যাশী বিএনপি নেতাকর্মীরা। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসাসি সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়ে, জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি শিমরাইলের বাসিন্দা পলাতক আব্দুল মতিন মাস্টারের জায়গাতে গুরু হাট দেওয়ার ইদ্যোগ গ্রহণ করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছাইফুল ইসলাম ছাদু বলেন, কয়েকশ গজের মধ্যে পাশাপাশি দুটি হাট হলে মারামারি হতেই পারে। একই রাস্তা দিয়ে দুটি হাটের গুরু আসলে সমস্য হবে। তাছাড়া হাসলি ঘর নিয়েও হবে সমস্যা। ইজারা পাওয়ার আগেই যা শুরু হয়ে তাতে বড় ধরণের সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দুটি হাট দেওয়া সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা থাকার সময় থেকে ৩নং ওয়ার্ডে দুটি হাট হয়ে আসছে। এই প্রথম এবছর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ৩টি হাটের দরপত্র আহবান করেছে। সিটি কর্তৃপক্ষ কার কথায় বা ইন্দনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের লোক নিয়ে আমি একা হাট করছিনা। মৌচাক মাদানীনগর বালুর মাঠে যারা হাট করছে তারাও সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা সাবেক কাউন্সিলর ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল বাদলের সহযোগী যুবলীগের লিটনকে নিয়ে হাট করছে। ইজারা পাওয়ার আগেই প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, গুরুর বেপারীদের আকৃষ্ট করার জন্য লিফলেট ছাপানো হয়েছে। এটা শুধু আমি একা করছিনা। প্রত্যেক হাটের লোকজন করছে।


























