০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জনপ্রতিনিধিহীন ছেংগারচর পৌরসভায় সনদ পেতে ভোগান্তি, ৯৩ শতাংশ পদ শূন্য

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৩

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় চরম সেবাবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রজ্ঞাপনে দেশের সব পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই স্থবির হয়ে পড়েছে নাগরিক সেবা কার্যক্রম। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের অন্যান্য পৌরসভার মতো ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদেরও ২৬ সেপ্টেম্বর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে পৌরসভাটি। ফলে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রে স্বাক্ষর, যাচাই-বাছাই এবং সুপারিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রায় অচল হয়ে যায়।

পৌরসভার সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, সনদ সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে কাউন্সিলরের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হয়। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এসব সেবা পেতে অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন পৌরবাসী।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ছেংগারচর পৌরসভা। পরে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ‘খ’ শ্রেণি এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। তবে নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, বাস্তবে রয়েছে চরম জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনা।

‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার নিয়োগ কাঠামো অনুযায়ী এখানে ১৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১জন। নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, কর নির্ধারকসহ অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পুরো পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ১৪৪টি পদই শূন্য, যা মোট পদের প্রায় ৯২.৯০ শতাংশ।

এদিকে রাস্তা ও পৌর কার্যালয়ে জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক উপস্থিতির অভাবে নাগরিক সেবা আরও ব্যাহত হচ্ছে। পৌর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও অধিকাংশ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

পৌর এলাকার বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আগে সনদের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরের সুপারিশ নিতে হতো। এখন সুপারিশ করার কেউ নেই। একটি সাধারণ সনদ তুলতেও অনেক ঘুরতে হয়।

বারআনী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রত্যেকটি কাজেই বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মতো জরুরি সেবাও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।

ছেংগারচর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খান জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার একদিন পৌরসভায় আসেন। যতটুকু সম্ভব সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি মাসিক সভা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া নিয়মিত আসেন না। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছি। নাগরিক সেবা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ কোনো ধরনের সেবা পেতে সমস্যায় পড়লে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

জনপ্রতিনিধিহীন ছেংগারচর পৌরসভায় সনদ পেতে ভোগান্তি, ৯৩ শতাংশ পদ শূন্য

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় জনপ্রতিনিধি না থাকায় চরম সেবাবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রজ্ঞাপনে দেশের সব পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের পদ থেকে অপসারণের পর থেকেই স্থবির হয়ে পড়েছে নাগরিক সেবা কার্যক্রম। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের অন্যান্য পৌরসভার মতো ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদেরও ২৬ সেপ্টেম্বর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে পৌরসভাটি। ফলে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রে স্বাক্ষর, যাচাই-বাছাই এবং সুপারিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রায় অচল হয়ে যায়।

পৌরসভার সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যুসনদ, সনদ সংশোধন, নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার (ওয়ারিশ) সনদ, ভূমিহীন সনদ, টিসিবি কার্ড, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে কাউন্সিলরের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হয়। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এসব সেবা পেতে অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন পৌরবাসী।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৫ এপ্রিল ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ছেংগারচর পৌরসভা। পরে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ‘খ’ শ্রেণি এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। তবে নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, বাস্তবে রয়েছে চরম জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনা।

‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার নিয়োগ কাঠামো অনুযায়ী এখানে ১৫৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১জন। নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, কর নির্ধারকসহ অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পুরো পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ১৪৪টি পদই শূন্য, যা মোট পদের প্রায় ৯২.৯০ শতাংশ।

এদিকে রাস্তা ও পৌর কার্যালয়ে জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক উপস্থিতির অভাবে নাগরিক সেবা আরও ব্যাহত হচ্ছে। পৌর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও অধিকাংশ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।

পৌর এলাকার বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আগে সনদের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরের সুপারিশ নিতে হতো। এখন সুপারিশ করার কেউ নেই। একটি সাধারণ সনদ তুলতেও অনেক ঘুরতে হয়।

বারআনী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রত্যেকটি কাজেই বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মতো জরুরি সেবাও সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না।

ছেংগারচর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খান জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার একদিন পৌরসভায় আসেন। যতটুকু সম্ভব সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি মাসিক সভা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া নিয়মিত আসেন না। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হয়।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি উপজেলা প্রশাসক এবং পৌর প্রশাসক হিসেবে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছি। নাগরিক সেবা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ কোনো ধরনের সেবা পেতে সমস্যায় পড়লে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন