০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

মতলব উত্তরে বোরোধান পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক, আবাদ বেড়েছে চলতি মৌসুমে

রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৯

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন বোরো ধানের জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় ধান গাছের পরিচর্যা, সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কৃষিকাজে চলছে কর্মচাঞ্চল্য। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত যেন পুরো মাঠকে ঢেকে দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা কেউ জমিতে নেমে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সেচের পানি নিয়ন্ত্রণ করছেন, আবার কেউ গাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও সেচ সুবিধা থাকায় ধানের চারার বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৭৯–৮০ অর্থবছরে এবং ১৯৮৭–৮৮ অর্থবছরে শেষ হয়। মতলব উত্তর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের মোট ১৭ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার মাধ্যমে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি বিশেষ করে বোরো ধান উৎপাদনই ছিল এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২০২৬ বোরো মৌসুমে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০৫ হেক্টর, যা ইতোমধ্যে অতিক্রম করে ৫৩৪ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৯৮৪ হেক্টর, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।

স্থানীয় কৃষক জসীমউদ্দিন বলেন, সময়ে বীজতলা তৈরি ও রোপণ করতে পারায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এখন নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।

আরেক কৃষক খোকন সরকার বলেন, এবার সেচ সুবিধা থাকায় বোরো আবাদে আগ্রহ বেড়েছে। তবে সার ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদের ব্যয়ও আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব উত্তরে বোরো ধান উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক সময় সেচ দেওয়া, আগাছা ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত মাঠ তদারকি করতে বলা হয়েছে। কৃষকরা নির্দেশনা মেনে চললে এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

সাবধান
এই পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কপি করতে পারবেন না

মতলব উত্তরে বোরোধান পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক, আবাদ বেড়েছে চলতি মৌসুমে

আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মমিনুল ইসলাম :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন বোরো ধানের জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় ধান গাছের পরিচর্যা, সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কৃষিকাজে চলছে কর্মচাঞ্চল্য। চারদিকে সবুজ ধানক্ষেত যেন পুরো মাঠকে ঢেকে দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা কেউ জমিতে নেমে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সেচের পানি নিয়ন্ত্রণ করছেন, আবার কেউ গাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও সেচ সুবিধা থাকায় ধানের চারার বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৭৯–৮০ অর্থবছরে এবং ১৯৮৭–৮৮ অর্থবছরে শেষ হয়। মতলব উত্তর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের মোট ১৭ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার মাধ্যমে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি বিশেষ করে বোরো ধান উৎপাদনই ছিল এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২০২৬ বোরো মৌসুমে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০৫ হেক্টর, যা ইতোমধ্যে অতিক্রম করে ৫৩৪ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৯৮৪ হেক্টর, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ বেড়েছে।

কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।

স্থানীয় কৃষক জসীমউদ্দিন বলেন, সময়ে বীজতলা তৈরি ও রোপণ করতে পারায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এখন নিয়মিত পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।

আরেক কৃষক খোকন সরকার বলেন, এবার সেচ সুবিধা থাকায় বোরো আবাদে আগ্রহ বেড়েছে। তবে সার ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদের ব্যয়ও আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব উত্তরে বোরো ধান উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক সময় সেচ দেওয়া, আগাছা ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত মাঠ তদারকি করতে বলা হয়েছে। কৃষকরা নির্দেশনা মেনে চললে এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন