ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় কচুয়ার প্রবাসীর মৃত্যু: মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আর্তনাদ
- আপডেট সময় : ০৯:২০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৩

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভাধীন কড়ইয়া গ্রামের প্রবাসী কাউছার হোসেন (৪০)।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) ওমানের রুস্তাক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কাউছার হোসেন নুর মিয়া সওদাগর বাড়ির আমির হোসেনের মেজো ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রবাসে পাড়ি জমান কাউছার। গত ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ওমানে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন কাউছার হোসেন। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে স্থানীয় রুস্তাক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত বুধবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি মা, বাবা, স্ত্রীও তিন কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। বর্তমানে বাবার লাশের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছে তার অবুঝ তিন কন্যা।
মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছোট্ট টিনের ঘরে বসবাস করা পরিবারটি এখন মরদেহ দেশে আনার জন্য মানবিক সহায়তা কামনা করছে।
নিহতের স্ত্রী জান্নাত আক্তার বলেন, প্রবাসে আমার স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সাজানো সংসার তছনছ হয়ে গেছে। স্বামীর মরদেহটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আমার স্বামী আমাদের জন্য প্রবাসে গিয়েছিল। এখন আমরা অসহায় হয়ে গেছি। আমার তিনটি মেয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য কাঁদে। আমি শুধু চাই, তার মরদেহ দেশে এনে দাফন করতে পারি। মরদেহ দেশে আনার খরচ ও পরিবারের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
নিহতের বাবা আমির হোসেন ও মা মাহফুজা বেগম বলেন, ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা ও ছেলের মৃত্যুর শোক দুই মিলিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আমরা গরিব মানুষ। ছেলের লাশ দেশে আনার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।
এদিকে প্রতিদিনই কাউসারের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল চলছে। তার তিন কন্যা সন্তানের চোখে বাবাকে শেষবার দেখার আকুতি।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, অর্থের অভাবে এখনো মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।























